সোমবার   ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৭ ১৪৩২   ২১ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৩০

যেসব কারণে বাতিল অথবা স্থগিত হতে পারে ভোট

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

 

নির্বাচন আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী, সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ ব্যাহত হলে বা ফলাফলের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোট বাতিল বা স্থগিত করার ক্ষমতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। জাতীয় সংসদ নির্বাচন কিংবা স্থানীয় সরকার নির্বাচন, যে কোনো ক্ষেত্রেই ভোট বাতিল হওয়া পুরো নির্বাচনপ্রক্রিয়ার ওপর আস্থার সংকট তৈরি করে।

 

ইসি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভোটের পরিবেশ, ভোটারদের নিরাপত্তা, প্রশাসনের ভূমিকা এবং প্রার্থীদের অভিযোগ, সব দিক বিবেচনায় নিয়েই কমিশনকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। পরিস্থিতি গুরুতর হলে শুধু একটি কেন্দ্র নয়, প্রয়োজনে পুরো আসনের ভোটও স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে।

‘ভোটের স্বচ্ছতা নষ্ট হলে বা ফলাফল প্রভাবিত হওয়ার মতো অনিয়ম প্রমাণিত হলে, ভোট বাতিল ছাড়া বিকল্প থাকে না।’

 

আইন অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্র দখল, মারামারি, ককটেল বা বোমা হামলা, গুলিবর্ষণ, ব্যালট ছিনতাই কিংবা ভাঙচুরের মতো সহিংসতা ঘটলে প্রিসাইডিং অফিসার তাৎক্ষণিকভাবে ভোট স্থগিত করতে পারেন। পরে তদন্ত শেষে অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন পুনরায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত দেয়।

 

ব্যালট পেপার নষ্ট বা হারিয়ে যাওয়া, বুথ দখল করে জালভোট প্রদান, একজনের একাধিকবার ভোট দেওয়া কিংবা সংঘবদ্ধ কারচুপি প্রমাণিত হলে সেই কেন্দ্রের ফলাফল বাতিলযোগ্য হয়। ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো, কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেওয়া বা জোরপূর্বক ভোটে প্রভাব বিস্তার করাও ভোট বাতিলের কারণ হিসেবে ধরা হয়।

 

এ ছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ, নিয়ম লঙ্ঘন বা ফলাফল পরিবর্তনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে ভোট বাতিল হতে পারে। প্রযুক্তিগত ত্রুটির ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত আসে, ব্যালট ভুল ছাপা, সিল বা সরঞ্জামের সমস্যা, ইভিএম বিকল হওয়া কিংবা তথ্যগত গরমিলের মতো ঘটনায় ভোট স্থগিত বা বাতিলের নজির রয়েছে।

 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ভোটার ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে। এমন অবস্থায় ভোটগ্রহণ বন্ধ করার ক্ষমতা রয়েছে নির্বাচন কর্মকর্তাদের। পাশাপাশি কোনো প্রার্থীর অভিযোগ বা রিটের ভিত্তিতে আদালত ভোট বা ফলাফল স্থগিতের নির্দেশ দিলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র বা আসনের ভোটও বাতিল বা স্থগিত হতে পারে।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিরাপত্তা জোরদারের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সিসিটিভি নজরদারি, পর্যবেক্ষক নিয়োগ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে। ভোট যেন স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য থাকে, সে লক্ষ্যে পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থার আট লাখের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

“সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, ব্যালট বা সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, কিংবা এমন কোনও অস্বাভাবিক অবস্থা, যেখানে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এসব ক্ষেত্রে ভোটের পবিত্রতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হলে সেটিকে ‘এক্সট্রা অর্ডিনারি সিচুয়েশন’ হিসেবে বিবেচনা করে ভোট বন্ধ করে দেওয়া হয়।”

এই বিভাগের আরো খবর