বৃহস্পতিবার   ২৯ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ১৬ ১৪৩২   ১০ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২১

বিচ্ছেদের কথা শুনে প্রেমিকা জিম্মি করে হত্যা:তথ্যচিত্রে ভয়াবহ ঘটন

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬  

নেটফ্লিক্সে মুক্তিপ্রাপ্ত নতুন প্রামাণ্যচিত্র ‘এলোয়া দ্য হোস্টেস: লাইভ অন টিভি’ ব্রাজিলের সাও পাওলোকে নাড়িয়ে দেওয়া ২০০৮ সালের এক ভয়াবহ জিম্মি ও হত্যাকাণ্ডের গভীরে গেছে। ২২ বছর বয়সী লিন্ডেমবার্গ আলভেস তার সাবেক প্রেমিকা, ১৫ বছরের কিশোরী এলোয়া ক্রিস্টিনা পিমেন্তেলকে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে জিম্মি করে রাখেন। ২০০৮ সালের ১৮ অক্টোবর আলভেস গুলি করে এলোয়াকে হত্যা করেন।

 

প্রামাণ্যচিত্রজুড়ে এলোয়ার কণ্ঠ শোনা যায়—তার ডায়েরির সদ্য প্রকাশিত অংশের মাধ্যমে। পাশাপাশি দেখানো হয়েছে সাও পাওলোর সান্তো আন্দ্রে এলাকায় তার অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে জড়ো হওয়া মানুষের ভিড়, সংবাদমাধ্যমের লাইভ কাভারেজ এবং এলোয়ার পরিবার, এক বন্ধু, তদন্তে যুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও ব্রাজিলীয় সাংবাদিকদের একান্ত সাক্ষাৎকার।

 

প্রামাণ্যচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে এই জিম্মি সংকট শুরু হয়েছিল এবং ধীরে ধীরে কীভাবে তা ভয়াবহ পরিণতির দিকে গড়ায়। এলোয়া আগে লিন্ডেমবার্গ আলভেসের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন। ডায়েরিতে তিনি লিখেছিলেন, “আমি কখনো ভাবিনি, আমি কাউকে এতটা ভালোবাসতে পারব, যেমনটা ওকে ভালোবাসি।” কিন্তু পরের লেখাগুলোয় উঠে আসে ভিন্ন চিত্র—আলভেসের বাজে আচরণ, নিয়মিত ঝগড়া এবং ঈর্ষা।

 

এক বন্ধু জানান, আলভেস এতটাই ঈর্ষান্বিত ছিলেন যে এলোয়া অন্য কারও সঙ্গে সময় কাটালেই সমস্যা করতেন। ফলে এলোয়া ধীরে ধীরে ঘর থেকে বের হওয়াও কমিয়ে দেন। পরিচালক ক্রিস ঘাত্তাস বলেন, “সম্পর্কটা একসময় দমবন্ধকর হয়ে ওঠে। সেটা আর ভালোবাসা ছিল না, বরং মালিকানার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।”

 

২০০৮ সালে এলোয়া সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু আলভেস তা মেনে নিতে পারেননি। তিনি মনে করতেন, এলোয়া তার ‘সম্পত্তি’। যদি সে তার না হয়, তবে আর কারও হবে না—এই মানসিকতা থেকেই ১৩ অক্টোবর তিনি এলোয়াকে জিম্মি করেন।

 

পরিচালক বলেন, “লিন্ডেমবার্গ সম্পর্কের শেষটা মেনে নিতে পারেননি। তিনি মনে করতেন, এলোয়া তাঁর মালিকানাধীন।” এলোয়ার ডায়েরির মাধ্যমে তাকে এমন একটি কণ্ঠ দেওয়া হয়েছে, যা সে তখন পায়নি—যাতে তাকে একজন শক্ত মনের কিশোরী হিসেবে তুলে ধরা যায়।

 

জিম্মি পরিস্থিতি ধীরে ধীরে রূপ নেয় একধরনের রিয়েলিটি টিভি শোতে। সাও পাওলোর বাসিন্দারা ভবনের সামনে ভিড় করেন। সাংবাদিকেরা অ্যাপার্টমেন্টে ফোন করতেন। একবার ফোন ধরেই এলোয়া জানান, সব ঠিক আছে এবং মাকে বলতে বলেন যে তিনি তাকে ভালোবাসেন।

পুলিশ এলোয়ার ছোট ভাই ডগলাসকে ব্যবহার করেন আলভেসের সঙ্গে কথা বলার জন্য। পাঁচ দিন এবং প্রায় ১০০ ঘণ্টা ধরে চলা এই সংকট ছিল সাও পাওলোর ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ জিম্মি পরিস্থিতি। শেষ পর্যন্ত আলভেস নিজেই পুলিশকে দরজা ভাঙার অনুমতি দেন। পুলিশ ভেতরে ঢুকে দেখতে পায়, আলভেস এলোয়াকে গুলি করেছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধারের এক দিন পর, ১৮ অক্টোবর এলোয়ার মৃত্যু হয়।

 

পরিচালক ঘাত্তাসের মতে, পুলিশ অনেক বেশি সময় ধরে আলোচনা চালিয়ে গেছে, যা হয়তো ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। প্রথম দিকেই পাশের ভবনে স্নাইপার মোতায়েন করা হলেও তাকে গুলি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। পুলিশ ভেবেছিল আলভেস কেবল একজন আহত প্রেমিক, যিনি শেষ পর্যন্ত শান্ত হয়ে যাবেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি হত্যার মানসিকতা নিয়েই অপহরণ করেছিলেন।

 

ঘাত্তাস বলেন, “শুরু থেকেই যদি এটিকে তরুণ প্রেমিক-প্রেমিকার সমস্যা না ভেবে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ও আসন্ন হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখা হতো, তাহলে এলোয়ার জীবন বাঁচানো যেত।” এই প্রামাণ্যচিত্র দর্শকদের সামনে তুলে ধরেছে একটি ভয়াবহ সত্য—প্রেমের নামে মালিকানা এবং সহিংসতার চক্র কতটা বিপজ্জনক হতে পারে।

 

এই বিভাগের আরো খবর