প্রকাশিত: ৭ ঘন্টা আগে, ০৬:০০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
শ্রমজীবী মানুষকে দেশের জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে তাঁদের টেকসই নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, "ন্যায্য মজুরি কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি শ্রমিকের ন্যায্য প্রাপ্য অধিকার।"
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ’ (বিলস)-এর সম্মেলন ও সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘মর্যাদা, অধিকার, ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতে এগিয়ে যাবার প্রত্যয়’ শীর্ষক এই জাতীয় সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, "শ্রমিকেরা কেবল শারীরিক শ্রম দেন না, তাঁরাই মূলত দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন। নিরাপদ কর্মপরিবেশ সুনিশ্চিত করা প্রতিটি শ্রমিকের মৌলিক অধিকার। শ্রমিকের কল্যাণ কেবল একজন ব্যক্তির উন্নয়ন নয়, বরং এটি পুরো একটি পরিবারের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।" একবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগামী প্রজন্মের শ্রমশক্তিকে আধুনিক প্রযুক্তি ও শিল্পমুখী প্রশিক্ষণে গড়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি।
শিল্প খাতের সার্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্কের তাগিদ দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, "সরকারের 'ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ ব্যবস্থা' (ট্রাইপারটাইট কনসালটেশন)-এর মাধ্যমেই আমরা শিল্প খাতকে টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে চাই। এই সম্পর্ক কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে পারস্পরিক বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপর দাঁড় করাতে হবে।"
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক ও সামাজিক অর্জনে শ্রমজীবী মানুষের ঐতিহাসিক অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মাহদী আমিন। একইসঙ্গে তিনি জানান, শ্রমজীবী পরিবারগুলোর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ইতোমধ্যে শ্রমজীবী নারীদের হাতে পৌঁছানো শুরু হয়েছে।
সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষি বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিলসের মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-র কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুননসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
মন্তব্য করুন