প্রকাশিত: ৪ ঘন্টা আগে, ১১:২০ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
মিগুয়েল আলমিরন কোনো ফাউল করেননি, প্রতিপক্ষকে আঘাত করেননি কিংবা রেফারির সঙ্গে তর্কেও জড়াননি। তবু তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে প্যারাগুয়ের এই মিডফিল্ডারকে। ঘটনার সময় ছিল প্রথমার্ধের যোগ করা সময়, আর রেফারির সিদ্ধান্তে বিস্মিত হয়ে যান আলমিরনসহ দর্শকরাও।
ঘটনার মূল কারণ ছিল আলমিরনের মুখ ঢেকে কথা বলা। তুরস্কের খেলোয়াড় মের্দ মুরদুলের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের মুখ জার্সি দিয়ে ঢেকে ফেলেন তিনি। নতুন কার্যকর হওয়া ফুটবল নিয়ম অনুযায়ী, এই আচরণকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং সেটির ভিত্তিতেই তাকে লাল কার্ড দেখানো হয়।
বিশ্ব ফুটবলের আইনপ্রণেতা সংস্থা আইএফএবি ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে নতুন এই নিয়ম চালু করেছে। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলার সময় মুখ ঢেকে রাখলে তা সন্দেহজনক আচরণ হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং রেফারি পরিস্থিতি অনুযায়ী সরাসরি লাল কার্ড দেখাতে পারবেন।
নতুন নিয়মের পেছনে মূল যুক্তি হলো, মুখ ঢেকে কথা বলার মাধ্যমে কোনো খেলোয়াড় গোপন বা বিতর্কিত মন্তব্য করছে কি না, তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বর্ণবাদী বা বিদ্বেষমূলক মন্তব্য আড়াল করার ঝুঁকি থাকে বলে নীতিনির্ধারকদের অভিমত।
সম্প্রতি ইউরোপীয় ফুটবলে এমন একটি ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়, যেখানে মুখ ঢেকে কথা বলার সময় সম্ভাব্য আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে এবং পরে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় শাস্তির মুখে পড়েন। সেই ঘটনার পর থেকেই ফুটবলে স্বচ্ছতা ও আচরণগত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মতে, এই নিয়মের উদ্দেশ্য প্রতিরোধ তৈরি করা। তার ভাষায়, লুকানোর কিছু না থাকলে মুখ ঢাকার প্রয়োজন নেই।
তবে আইএফএবি জানিয়েছে, প্রতিটি পরিস্থিতি রেফারির বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে। আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে রেফারি লাল কার্ড দেখানোর পূর্ণ ক্ষমতা রাখবেন।
তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে সেই সিদ্ধান্তই নেন রেফারি ইভান বারটন, যার ফলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মুখ ঢেকে কথা বলার কারণে লাল কার্ড দেখলেন মিগুয়েল আলমিরন।
মন্তব্য করুন