আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ ঘন্টা আগে, ১১:১২ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ইরান আলোচনায় সুইজারল্যান্ডে ট্রাম্পের দূত, যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে সই হওয়া সমঝোতা চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শান্তি আলোচনার প্রথম পর্বে অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে সফর করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।

এর আগে এই আলোচনায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তার সফর স্থগিত করা হয়।

এদিকে, লেবাননে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে শুক্রবার ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে ইসরায়েলের তীব্র সামরিক অভিযানের কারণে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কারণ তেহরানের পক্ষ থেকে চুক্তির অন্যতম শর্ত হিসেবে লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি জোর দিয়ে বলা হয়েছিল।

ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতির খবর প্রকাশের পরই সুইজারল্যান্ডে শান্তি আলোচনায় বসতে মার্কিন দূত উইটকফের সফরের বিষয়টি সামনে আসে। এতে করে মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে প্রাথমিক বাধা অনেকটাই দূর হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ইরানের সঙ্গে প্রথম দফার আলোচনা করতেই উইটকফ সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন।

এর আগে লেবাননে ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলায় একদিনেই অন্তত ৪৭ জন নিহত হন। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির কারণেই ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স আলোচনায় অংশ নিতে অনাগ্রহ দেখান।

এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মাঝে মাঝে শান্ত থাকা এবং কৌশলী সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় এবং ইরানের সহায়তায় লেবাননে যুদ্ধবিরতির এ সমঝোতা হয়েছে, যা স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল থেকে কার্যকর হয়েছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ইরানের প্রেসিডেন্টের মধ্যে গত বুধবার সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিদের আলোচনায় বসার কথা ছিল। তবে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ এ প্রক্রিয়াকে অনিশ্চয়তায় ফেলেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের কট্টরপন্থি নেতৃত্ব এ ধরনের সমঝোতা ভেস্তে দিতে আগ্রহী, যা ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকতে পারে।

মন্তব্য করুন