প্রকাশিত: ৬ ঘন্টা আগে, ০৪:৫৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও অবরোধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ঘোষণায় অঞ্চলজুড়ে স্বস্তির আভাস দেখা দিয়েছে। তবে চুক্তির বিভিন্ন শর্ত, বিশেষ করে লেবানন ইস্যুতে ইসরাইলের আপত্তি নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত খসড়া অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে ‘অবিলম্বে ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি’র বিধান রাখা হয়েছে।
এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির বলেন, এই চুক্তি তাদের জন্য বাধ্যতামূলক নয় এবং এটি ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না। তিনি লেবাননে হিজবুল্লাহর সম্পূর্ণ বিলুপ্তির দাবি জানান।
একই অবস্থান তুলে ধরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ জানান, লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় গড়ে তোলা ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ থেকে ইসরাইলি বাহিনী সরে যাবে না।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে দেশটিতে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৩ হাজার ৬৯৬ জন নিহত এবং ১১ হাজার ৪১৩ জন আহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা ছিল তেহরানের অন্যতম প্রধান শর্ত। ফলে ইসরাইলের সেনা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি চুক্তির বাস্তবায়নকে জটিল করে তুলতে পারে।
কার্নেগি মিডল ইস্ট সেন্টারের বিশ্লেষক ইসাম কায়সি বলেন, ইসরাইল লেবাননে সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে স্বাধীনভাবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অবস্থান বজায় রাখতে চাইছে, যা পুরো চুক্তি প্রক্রিয়াকে দুর্বল করতে পারে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি ঘোষণার আগে লেবাননে হামলা চালানোয় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেন।
অন্যদিকে, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ চুক্তিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করায় তেহরানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনও আশা প্রকাশ করেছেন, এই চুক্তি ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি স্বল্পমেয়াদে উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হলেও দীর্ঘমেয়াদে ইসরাইল, হিজবুল্লাহ ও ইরানের মধ্যে মৌলিক বিরোধ নিরসনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে যাবে।
মন্তব্য করুন