তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৭:৫৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

বাজেট ২০২৬ -২০২৭

বাজেট বাস্তবায়নে বড় ঘাটতির আশঙ্কা র‍্যাপিডের, মূল্যস্ফীতি বাড়ার সতর্কতা

ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে গেলে প্রায় চার লাখ কোটি টাকার প্রকৃত ঘাটতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‍্যাপিড)।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সিরডাপ মিলনায়তনে বাজেট প্রতিক্রিয়া উপস্থাপন অনুষ্ঠানে সংস্থাটি এই মূল্যায়ন তুলে ধরে।

র‍্যাপিড চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক বলেন, বাজেটে যে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার ব্যয় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে গেলে ঘোষিত ঘাটতির বাইরে গিয়ে প্রকৃত ঘাটতি আরও অনেক বেশি হতে পারে। তার মতে, কেবল এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্য পূরণেই অন্তত এক লাখ কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, অতীতের মতো এবারও রাজস্ব আহরণের উচ্চ লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে, ফলে রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের ঘাটতি থেকে যেতে পারে।

সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়, বিদেশি ঋণ সংগ্রহের ক্ষেত্রেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব নাও হতে পারে। এম এ রাজ্জাকের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত লক্ষ্যের তুলনায় প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হতে পারে, কারণ বৈশ্বিকভাবে বিদেশি সহায়তার প্রবাহও কমে যাচ্ছে।

বাজেটের অর্থায়ন কাঠামো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন সহায়তার প্রবণতা নিম্নমুখী হওয়ায় নির্ধারিত অর্থপ্রাপ্তি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে সতর্ক করে র‍্যাপিড চেয়ারম্যান বলেন, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না করে কেবল উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য সামনে এগোলে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যেতে পারে এবং অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হবে।

তার মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমেছে এবং দারিদ্র্যের হারও কার্যত বেড়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ অবশ্যই স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে হতে হবে। তা না হলে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর প্রচেষ্টা উল্টো মূল্যস্ফীতি আরও উসকে দিতে পারে।

অনুষ্ঠানে অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ, সাবেক উপদেষ্টা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন