প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৭:৪৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে দুই দেশের সম্পর্কের সম্ভাব্য নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে উভয় দেশের কর্মকর্তারা আলোচনায় বসবেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্কের নাটকীয় পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি অগ্রগতি।
চুক্তি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত অবরোধ শিথিল করা হবে বলে জানা গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে বলা হচ্ছে, আংশিকভাবে নৌ চলাচল ইতোমধ্যেই পুনরায় শুরু হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে এটিকে চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক অংশীদাররা ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি ইরানের ওপর আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহারের বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইরানের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল—তেল রপ্তানি, আর্থিক সম্পদ ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দেশটির অর্থনীতিতে দ্রুত পরিবর্তন আসতে পারে।
চুক্তিতে ইরানের জব্দ থাকা বিপুল সম্পদও ফেরত দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। আন্তর্জাতিক হিসেবে ইরানের ১০০ থেকে ১২০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ বর্তমানে আটকে রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
১৯৭৯ সালে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এটিকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সমঝোতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ৬০ দিনের আলোচনা অত্যন্ত জটিল হবে এবং চূড়ান্ত চুক্তির ভবিষ্যৎ অনেকটাই সেই আলোচনার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।
মন্তব্য করুন