আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৩:৪২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্প–মেলোনি বাকযুদ্ধ

কূটনৈতিক টানাপোড়েন, সফর বাতিল ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যে প্রকাশ্য বিবাদ তৈরি হয়েছে। এর জেরে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্তোনিও তাজানি আগামী সপ্তাহের যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন। সাম্প্রতিক এই ঘটনাপ্রবাহ দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে সম্পর্কের অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় ইতালির একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া ট্রাম্পের মন্তব্যকে ঘিরে। সেখানে তিনি দাবি করেন, মেলোনি তার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য ‘অনুরোধ’ করেছিলেন। তবে এই দাবি সরাসরি নাকচ করে ইতালির প্রধানমন্ত্রী একে ‘সম্পূর্ণ বানানো গল্প’ বলে উল্লেখ করেন।

ট্রাম্পের মন্তব্যের পরপরই ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্তোনিও তাজানি তার নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিলের ঘোষণা দেন, যা কূটনৈতিক অস্বস্তিকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

এর আগে ফ্রান্সের এভিয়াঁ-লে-বাঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মেলোনিকে ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলতে দেখা যায়। সম্মেলন শেষে মেলোনি জানিয়েছিলেন, তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো তিক্ততা নেই। তবে পরে ট্রাম্পের টেলিফোন সাক্ষাৎকারে করা মন্তব্য পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত করে তোলে।

ট্রাম্পের বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে মেলোনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, তিনি এমন আচরণের কারণ বুঝতে পারছেন না। তার ভাষায়, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এমন আচরণ দুঃখজনক। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ট্রাম্প শত্রু রাষ্ট্রগুলোর প্রতি যে দৃঢ়তা দেখান না, মিত্রদের ক্ষেত্রে তা উল্টোভাবে প্রয়োগ করেন।

মেলোনির এই প্রতিক্রিয়ায় ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাট্টারেল্লা তাকে সমর্থন জানিয়েছেন। দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিরোধী দলীয় নেতারা ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘অশোভন’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরোধ কেবল ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নয়; বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিরোধিতা করায় ট্রাম্প ও মেলোনির মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির প্রতি সমালোচনামূলক অবস্থান জোরদার হয়েছে। তারা মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক পদক্ষেপসহ বিভিন্ন বিষয়ে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন। একই সঙ্গে ইউরোপকে আরও কৌশলগতভাবে স্বনির্ভর করার আলোচনা নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এই ধরনের অবস্থান ইউরোপের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতার প্রতিফলন, যেখানে অনেক নেতা এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্বাধীন অবস্থান নিতে আগ্রহী।

মন্তব্য করুন