আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ ঘন্টা আগে, ০৯:৫৯ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ওয়াশিংটনে নতুন দফা বৈঠক

ইসরাইল-লেবানন শান্তি প্রচেষ্টায় আগামী সপ্তাহে ফের বৈঠকে

ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটন ডিসিতে আগামী সপ্তাহে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে নতুন দফার দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে এই বৈঠককে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সহিংসতা প্রশমনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৯ জুন) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ তথ্য জানায়। সংস্থাটি জানায়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন–এর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি সংলাপই লেবাননের পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরাইল ও সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ সংঘর্ষে শুক্রবার মধ্যরাতের পর দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন।

২০২৪ সালের নভেম্বরে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি রোডম্যাপের অংশ হিসেবে লেবানন সরকার হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার উদ্যোগ নেয়। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়ে আসছে দেশটি। তবে সাম্প্রতিক এক চুক্তিতে হিজবুল্লাহকে লিটানি নদীর উত্তর দিকে সরে যাওয়ার কথা বলা হলেও, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী ২৩ ও ২৫ জুন অনুষ্ঠেয় বৈঠকগুলো দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রগতির সুযোগ তৈরি করবে। এর আগে এপ্রিল মাসে ১৯৯৩ সালের পর প্রথমবারের মতো সরাসরি আলোচনায় বসে ইসরাইল ও লেবানন। এরপর জুনে আরও একটি দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে।

তবে এসব আলোচনায় হিজবুল্লাহকে অন্তর্ভুক্ত না করায় কার্যকর অগ্রগতি অর্জন কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারকে লেবাননের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতিশ্রুতি থাকলেও চলমান সংঘাত সেই উদ্যোগের বাস্তবায়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের সমালোচনা করেছেন।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই অভিযোগ করেছেন, ইসরাইল ‘স্থায়ী যুদ্ধের নীতি’ অনুসরণ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন বৈঠকগুলো মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, তবে বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণ ও আন্তরিকতার ওপর।

মন্তব্য করুন