প্রকাশিত: ৫৩ মিনিট আগে, ১০:০৪ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
গাজা যুদ্ধের সময় কাতার ইসরায়েলের নীতিতে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলতে পারেনি দাবি করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘আই২৪নিউজ’ (i24NEWS)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাতারকে সরাসরি একটি ‘শত্রুভাবাপন্ন’ রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দম্ভোক্তি করে বলেন, “আমি কাতারে হামলা চালিয়েছি, সেখানে বোমা মেরেছি এবং যুদ্ধের সময় তাদের ওপর আক্রমণ করেছি।”
২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় হামাসের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বিমান হামলার ঘটনার এক বছর পূর্তির ঠিক আগে তাঁর এই মন্তব্যে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলাকালে চালানো ওই হামলায় পাঁচজন হামাস সদস্য ও কাতারের একজন নিরাপত্তাকর্মী প্রাণ হারান। কাতার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছিল। পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে এক টেলিফোন আলাপে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই হামলার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমাও চেয়েছিলেন নেতানিয়াহু।
সাক্ষাৎকারে গাজায় কয়েক বছর ধরে পাঠানো কাতারের কোটি কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তা প্রসঙ্গে ওঠা সমালোচনারও জবাব দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, গাজায় স্থানান্তরিত অর্থ কেবল মানবিক সহায়তার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে এবং গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও শিন বেতের সুনির্দিষ্ট সুপারিশের ভিত্তিতেই এই অর্থের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কাতারও শুরু থেকেই ইসরায়েলি সমালোচকদের এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করে আসছে, সমস্ত প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক নজরদারির মধ্যেই পরিচালিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইসরায়েলের জাতীয় সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নেতানিয়াহু তীব্র অভ্যন্তরীণ ও রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন। মূলত ডানপন্থী ভোটারদের আস্থা ধরে রাখতে এবং গাজা যুদ্ধ ও নিরাপত্তা প্রশ্নে নিজের কঠোর ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠিত করতেই নির্বাচন ঘনিয়ে আসার মুখে কাতার ও ইরান ইস্যুতে এমন আক্রমণাত্মক ও চরমপন্থী সুর অবলম্বন করছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
মন্তব্য করুন