প্রকাশিত: ৫৮ মিনিট আগে, ০৯:৫৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
মার্কিন সামরিক বাহিনীতে ঘটে যাওয়া ধারাবাহিক অননুমোদিত তথ্য ফাঁসের উৎস খুঁজে বের করতে চূড়ান্ত কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে নিউ ইয়র্ক ওয়াশিংটন প্রশাসন। গণমাধ্যমে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের দায়ে মার্কিন জয়েন্ট স্টাফের প্রায় ৫০ জন উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নজিরবিহীন পলিগ্রাফ বা ‘লাই ডিটেক্টর’ পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছেন। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য উঠে এসেছে।
আইন ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিকল্পনা ও অপারেশন সমন্বয়কারী শীর্ষ প্রতিষ্ঠান জয়েন্ট স্টাফের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন তদন্ত আমেরিকান সামরিক ইতিহাসে সম্পূর্ণ অভাবনীয় ও নজিরবিহীন। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সম্পর্কিত সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের কারণে মার্কিন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টরের তীব্র ঘাটতির খবর সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যায়। কিভাবে এই অতি সংবেদনশীল ও গোপনীয় তথ্য সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছাল, তা জানতেই এই সর্বাত্মক পলিগ্রাফ মিশন চালানো হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক অস্ত্রের ঘাটতি বিষয়ক প্রতিবেদনগুলোকে প্রকাশ্যে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ কাজ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল এই প্রসঙ্গে জানান, "যুক্তরাষ্ট্রের গোপনীয় তথ্য সুরক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে। আমাদের দায়িত্বে নিয়োজিত সৈন্যদের জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থেই এসব গোপনীয়তা বজায় রাখা অপরিহার্য।"
অন্যদিকে, এই বৃহৎ পরিসরের লাই ডিটেক্টর পরীক্ষা পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও চরম অবিশ্বাসের চিত্রকেই প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের বিতর্কিত প্রশাসনিক শৈলী ও সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই হেগসেথ তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমে প্রায় ৮০ জন জেনারেল, অ্যাডমিরাল ও শীর্ষ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত কিংবা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করেছেন। এমনকি বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর সার্বিক করুণ অবস্থা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের অপরাধে পেন্টাগন-অর্থায়িত ঐতিহ্যবাহী প্রকাশনা ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-এর শীর্ষ সম্পাদককেও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
নিরাপদে সিগন্যাল অ্যাপের মাধ্যমে সংবেদনশীল তথ্য আদান-প্রদানের অভিযোগ ওঠা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য পিট হেগসেথের কাজের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সার্বিকভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের এমন আক্রমণাত্মক মনোভাব ও পেন্টাগনের নজিরবিহীন তদন্তে আমেরিকান প্রতিরক্ষা সদর দপ্তরে চরম চাপ ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
মন্তব্য করুন