প্রকাশিত: ৬ ঘন্টা আগে, ০৭:১০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বলিউড তারকা আমির খানের ব্যক্তিগত জীবন ও দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে ভক্তদের কৌতুহলের শেষ নেই। সাবেক দুই স্ত্রী রিনা দত্ত ও কিরণ রাওয়ের সঙ্গে বিচ্ছেদের পরও তাঁর যে আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রয়েছে, তা বলিপাড়ায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সম্প্রতি আমিরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আমিন হাজি ও তাঁর স্ত্রী শার্লট এক সাক্ষাৎকারে আমিরের সাবেক স্ত্রীদের প্রতি তাঁর পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ইতিবাচক জীবনদর্শনের নানা অজানা কথা প্রকাশ্যে এনেছেন।
উপস্থাপক সিদ্ধার্থ কান্নানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আমিন হাজি রসিকতা করে জানান, আমির খান একবার নিজেই তাঁকে বলেছিলেন যে, তিনি ভালো স্বামী হওয়ার চেয়ে ‘ভালো প্রাক্তন স্বামী’ হিসেবে বেশি সফল। আমিনের মতে, আমিরের জীবনের প্রধান ভিত্তি হলো বিশ্বস্ততা। কারো প্রতি কোনো বিষয়ে মান-অভিমান থাকলেও সেটি কেবল সেই নির্দিষ্ট বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেন তিনি, অন্য কোনো মানবিক বা সামাজিক সম্পর্কে তার প্রভাব পড়তে দেন না।
আমিন হাজির স্ত্রী শার্লট জানান, সাবেক স্ত্রী রিনা দত্তের স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব ও ধর্মীয় পরিচয়ের প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন আমির। বিয়ের পরও রিনা দত্ত তাঁর নিজের নাম কিংবা ধর্ম পরিবর্তন করেননি এবং আমিরও কখনো তাঁর ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেননি। এমনকি সন্তানদের (জুনায়েদ ও আইরা) নাম রাখার ক্ষেত্রেও রিনার সিদ্ধান্ত ও পছন্দকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
চলচ্চিত্র ‘লাল সিং চাড্ডা’ মুক্তির পর এবং ব্যক্তিগত জীবনে ট্রোলাদের কটু কথার শিকার হয়েও আমির যেভাবে মানুষের ভালো দিকটা খোঁজার চেষ্টা করেন, তারও ভূয়সী প্রশংসা করেন শার্লট। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিষাক্ত আক্রমণের মুখে পড়েও আমির সহজে কারো সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন না, বরং ক্ষমা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সম্পর্ক ধরে রাখায় বিশ্বাসী।
উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে রিনা দত্তকে বিয়ে করেন আমির খান। ২০০২ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা কিরণ রাওকে বিয়ে করেন তিনি এবং ২০২১ সালে তাঁদের যৌথ সম্মতিতে বিচ্ছেদ ঘটে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিল হিসেব-নিকেশ এড়িয়ে সাবেক স্ত্রীদের সম্মান ও বন্ধুত্বপূর্ণ সান্নিধ্য বজায় রেখে আমির খান হিন্দি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন।
মন্তব্য করুন