এই দিন

বৃহস্পতিবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২০   অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৭   ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১৩৩

সিলেটে পাথর কোয়ারী বন্ধ থাকায়, কর্মহীন লাখ লাখ শ্রমিক

মো. মোহন

প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০২০  

পাথরের রাজ্য হিসেবে পরিচিত সিলেট জেলার সবচেয়ে বড় পাথর খনি অবস্থিত কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট  উপজেলায়। যেখানে প্রতিদিন কয়েক লাখ মানুষ কাজ করত। যে কাজ করতে পারে না সেও নাকি এখানে দিনে ৩০০-৫০০ টাকা উপার্জন করতে পারে। লাখো শ্রমিকের কর্মক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত ছিল এই গোয়াইনঘাট উপজেলা পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের ও  কোম্পানীগঞ্জ যেখানে ভোলাগঞ্জ, উৎমা, শাহ আরফিন পূর্ব জাফলংয়ে কোয়ারীগুলোতে প্রতিদিন প্রায় কয়েক লক্ষ মানুষ কাজ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করত।

কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জের সবচেয়ে বড় পাথর খনি গুলো এখন বন্ধ। চোঁখের তৃপ্তি আর মনের সাধ মেটানোর জন্য  জাফলং ও ভোলাগঞ্জ আর উৎমা কোয়ারী তিনটিও বন্ধ। জাফলং ও ভোলাগঞ্জের পাথরের গুণগতমান এতটাই ভাল যে সমগ্র বাংলাদেশে এই পাথরের চাহিদা ছিল সবার আগে।

প্রতিদিন এই গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ থেকে প্রায় ৭ লাখ সেফটি পাথর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেত। যা থেকে সরকার ও কয়েক লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করতে পারত। বিগত ৫ বছর থেকে পাথর কোয়ারীগুলো বন্ধ থাকায় সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আর শ্রমজীবী মানুষেরা হারিয়েছে তাদের কর্মক্ষেত্র। প্রায় ৭শত কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু মহাসড়ক যার কাজ প্রায় শেষের পথে। এই মহাসড়ক হওয়ার সাথে সাথে এলাকার মানুষেরও আশার পালে হাওয়া লেগেছে, সরকার হয়ত এবার শ্রমজীবী মানুষের দুঃখ দুর্দশার দিকে তাকিয়ে এবং সরকারের কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের কথা চিন্তা করে গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ পাথর কোয়ারীগুলো খোলে দিবে। যে গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ কর্মক্ষেত্র হিসেবে বেঁচে নিত সেই গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জের মানুষই এখন কর্মহীন হয়ে বসে আছে।

একমাত্র শাহ আরফিন পাথর কোয়ারীটি সচ্ছল ছিল বলে ঐ অঞ্চলের লোকজন কিছুটা রুজিরোজগার করে দু’বেলা দুমুঠো খাবার খেয়ে বেঁচে থাকতে পারছে। কিন্তু গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে এই পাথর কোয়ারীটিও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অত্র এলাকার লোকজনের বিকল্প কোন কর্মক্ষেত্র না থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। কিছু দিন পূর্বে বৃষ্টির সময় যখন এই কোয়ারী বন্ধ ছিল তখন প্রায়ই শুনা যেত ভোলাগঞ্জসহ অত্র এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় চুরি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপকর্মের কথা। শাহ আরফিন টিলা কোয়ারীটি সচল হওয়ায় এই ঘটনাগুলো কমতে শুরু করে। উপার্জনের উপায় না থাকলে মানুষ অসৎ উপায় বেচে নিতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এলাকার সচেতন মহল।

তাই গোয়াইনঘাটের পূর্ব জাফলং ও ভোলাগঞ্জ, উৎমা, শাহ আরফিন সহ সকল পাথর কোয়ারীগুলোকে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের কর্মক্ষেত্র হিসেবে খুলে দিয়ে গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জের আগের মত কর্মচাঞ্চল্যে ফিরিয়ে আনার জন্য আহ্বান জানান অত্র এলাকার ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল।

এই বিভাগের আরো খবর