বৃহস্পতিবার   ৩০ জুন ২০২২   আষাঢ় ১৭ ১৪২৯   ৩০ জ্বিলকদ ১৪৪৩

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৯৫

নবজাতক কন্যার মুখও দেখতে পারলেন না মনিরুজ্জামান

নিজস্ব প্রতিবেদক  

প্রকাশিত: ৬ জুন ২০২২  

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফেরণের ঘটনায় রোববার (৫ জুন) সকালে আগুন নেভাতে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মনিরুজ্জামান মনিরের (৩০) গ্রামের বাড়িতে চলছে মাতম। কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী নার্সিং অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। তার বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের নাইয়ারা গ্রামে।

নবজাতক কন্যার মুখও দেখতে পারেননি মনিরুজ্জামান। তার বাড়িতে শোকাহত গ্রামবাসী ও আত্মীয়স্বজনের ঢল নেমেছে। ছেলের শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন বয়োবৃদ্ধ মা শরীফা বেগম। 
শরীফা বেগম জানান, শনিবার রাত ৮টার দিকে মনিরুজ্জামানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে তার শেষ কথা হয়। ওই সময় মনিরুজ্জামান বলেন, ১৫ দিন পর সিঙ্গাপুরপ্রবাসী তার সেজো ভাই লুৎফুর রহমান এলে তিনি বাড়ি আসবেন। এক সপ্তাহ বাড়িতে অবস্থান করবেন। পরিবারের সবাইকে শ্বশুরবাড়ি পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামে নিয়ে আনন্দ-উৎসব করার কথাও জানান।

এছাড়া বিভিন্ন অসুখে আক্রান্ত তার মাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভালো হাসপাতালে ডাক্তার দেখাবেন বলেও তার মাকে জানান। কিন্তু মনিরুজ্জামানের মৃত্যুতে পরিবারে আজ বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে।মনিরুজ্জামান নাঙ্গলকোটের নাইয়ারা গ্রামের মৃত মুক্তিযোদ্ধা শামছুল হকের ৪ ছেলে ১ মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সন্তান। চার বছর আগে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের সোহরাব মুন্সির মেয়ে মাহমুদা আক্তার মুক্তাকে প্রেমের সম্পর্কে বিয়ে করেন।

সরেজমিন জানা যায়, বিয়ের দুই বছর পর তার প্রথম সন্তান প্রসবের সময় মারা য়ায়। দেড় মাস আগে মনিরুজ্জামান জান্নাতুল মাওয়া নামে এক কন্যাসন্তানের বাবা হন। এখন পর্যন্ত সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ হয়নি তার। মনিরুজ্জামান সাত বছর আগে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিসে সহকারী নার্সিং অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা ফুলবাড়িয়া হেড অফিসে কর্মরত ছিলেন। দুমাস আগে চট্টগ্রামের কুমিরা ফায়ার সার্ভিসে যোগদান করেন।

মনিরুজ্জামানের খালাতো ভাই সিঙ্গাপুরপ্রবাসী এ এস এম মানিক বলেন, ‘আমার খালু অনেক কষ্ট করে ছেলেদের লেখাপড়া করান। তাদের ভিটেমাটি বলতে কিছু নেই। টাকাপয়সা সঞ্চয় করে বাড়ি করাসহ পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন ছিল মনিরুজ্জামানের। কিন্তু তার মৃত্যুতে সব শেষ হয়ে গেল।’ মানিক আরও বলেন, ‘আমার খালাতো ভাই দেশের মানুষের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে মারা গেছেন। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।’

এই বিভাগের আরো খবর