মঙ্গলবার   ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৮ ১৪৩২   ২২ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১৬

রমজান ও গরমে ব্যাপক লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা

তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

এ আই ছবি

এ আই ছবি

ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবির কাছে ১৪ হাজার কোটি টাকা বিল পাওনা আছে। যদি শিগগির এর ৬০ শতাংশ বিল পরিশোধ করা না হয় তাহলে আগামী গ্রীষ্ম ও রমজানে ব্যাপক লোডশেডিং হতে পারে। সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন-বিপ্পার সাবেক সভাপতি ইমরান করিম এ কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশীয় বিদ্যুৎ কোম্পানির বিল ৮ থেকে ১০ মাস পর্যন্ত বকেয়া রেখে ক্ষমতা ছাড়ছে। তবে তারা বিদেশি কোম্পানিদের বিল যথারীতি পরিশোধ করছে। দেশীয় কোম্পানির ১৪ হাজার কোটি টাকার বিল না দেওয়ায় অনেক কোম্পানি দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম। এর মধ্যে পুরোনো ইস্যু তুলে সময়মতো চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ না করার অভিযোগে বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকা জরিমানা কাটার উদ্যোগ নিয়েছে পিডিবি। সরকারের শেষ সময়ে এ ধরনের উদ্যোগ দেশীয় কোম্পানিকে গলাটিপে মেরে ফেলার শামিল।

 

বিপ্পার সভাপতি ডেভিড হাসনাত বলেন, মাত্র এক বছর আগে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া ছিল মাত্র ৯ হাজার কোটি টাকা। এখন পিডিবির কাছে ১৪ হাজার কোটি টাকার বিল বাকি। এমনিতে বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোকে আওয়ামী লীগ ঘরানার লোক বলে ভর্ৎসনা করা হয়। অথচ ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ আগস্টের ঠিক আগে অনেক কোম্পানির মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন নতুন সরকার আমলে বিল পরিশোধ না করলে বিদ্যুৎ দিতে পারব না। তাই তখন বিদ্যুতের বিপর্যয় ঘটতে পারে। তখন যাতে নতুন সরকার বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোকে ভুল না বোঝে তার জন্য এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

 

ইমরান করিম বলেন, সরকার দেশীয় কোম্পানির সঙ্গে একেবারে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। দেশীয় কোম্পানির কাছে প্রমাণ আছে কয়লাভিত্তিক চীনের কোম্পানি বরিশাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সময়মতো বিদ্যুৎ না দিলেও তাদের ক্যাপাসিটি চার্জ বা বিল দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে চীনের দূতাবাস চিঠি দিয়ে তাদের জন্য তদবির করেছে। সেই তদবিরের কারণে বরিশাল বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বিদ্যুৎ দিতে না পারলেও তাদের কোনো জরিমানা করা হয়নি। অথচ দেশীয় কোম্পানিকে অন্যায়ভাবে জরিমানা হিসাবে ৮ হাজার কোটি টাকা বিল থেকে কাটা হচ্ছে। এতে করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ হুমকির মুখে পড়তে পারে।

 

সংবাদ সম্মেলনে বিপ্পার পরিচালক নাভিদুল হক ও ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রমজান ও গরমের সময় লোডশেডিং হলে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে আসতে পারে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে খাদ্য সংকটসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এই বিভাগের আরো খবর