সোমবার   ১২ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ২৯ ১৪৩২   ২৩ রজব ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৯৭

জয়পুরহাটে মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব

মতলুব হোসেন, জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই ২০২০  

সামাজিক দূরত্ব মানছে না কেউই দেখলেই তা বোঝা যায়। করোনাভাইরাস মহামারীতে দেশে দিন দিন বেড়েই চলেছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। সংক্রমণ ঢাকা রাজধানী ছাড়িয়ে পৌঁছেগেছে জেলায় জেলায়। কিন্তু সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সামাজিক দূরত্ব মানতে দেখা যাচ্ছে না জয়পুরহাট জেলায়। জীবিকার প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হলেও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে জয়পুরহাটে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ৫৫০ জনের আর করোনা জয় করে বাড়ি ফিরেছে ৩৫১ জন। তবে জেলায় এখন পর্যন্ত মারা যাওয়ার কোন খবর পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
 
শহরের বাটার মোড়, পাচুর মোড়, পূর্ব বাজার, ঔষুধের দোকান সহ বিভিন্ন কাঁচা বাজারের দিকে তাকালে বোঝা যায় সামাজিক দূরত্ব না মানার প্রবণতা। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে দেখা গেছে মাস্ক না পড়ে ঘুরতে এবং মাস্ক থাকলেও তা থুঁতনিতে লাগিয়ে ঘুরছেন।  ঔষধের দোকান করোনার সংক্রামণের শুরু থেকেই খোলা রাখা হয়েছে। প্রথম প্রথম দোকানগুলোতে সামাজিক দূরত্ব মানতে দেখা গেলেও এখন তার উলটো চিত্র চোখে পড়ে। শহরের সওদাগর ফার্মেসি নামের একটি ঔষুধের দোকানের সামনে ক্রেতাদের ভিড় জমাতে দেখা যায়। অনেক কে আবার দেখা গেছে মাস্ক না পরেই দাঁড়িয়ে থাকতে। শুধু সওদাগর ফার্মেসি না শহরের বেশকিছু ফার্মেসিতে দেখা গেছে সামাজিক দূরত্ব না মেনে ঔষুধ কিনতে। পূর্ববাজারের কাপরের দোকানগুলো দেখলে মনে হবে করোনা ভাইরাস নামে যে কোনো সংক্রামক রোগ জীবন কেড়ে নিচ্ছে তা বোঝার উপায় নেই। সরকারি নির্দেশে দোকানগুলোর সামনে করোনা ভাইরাস নিয়ে সতর্ক থাকার ব্যানার দেওয়া থাকলেও কাউকে সামাজিক দূরত্ব মানতে দেখা যায়নি। ঈদকে সামনে রেখে এখোন থেকেই কেনাকাটা ইতি মধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে কয়েক জন ক্রেতা। রাস্তার পাশে ফুটপাতে মাস্ক হাতে নিয়ে হাটতে থাকা এক যুবককে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘অনেক সময় থেকেই মাস্ক পড়েছিলাম কিছুক্ষণ আগে খুলেছি। দু'মাস ধরে তো মাস্ক পড়ছিই, আর কত?’ লকডাউন না থাকায় শহরের প্রধান প্রধান সড়ক গুলোতে দেখা গেছে আগের মতো যানজট। বাস চলছে, চলছে চার্জার অটো, ভ্যান, আটোরিকশা। সামাজিক দূরত্ব  না মেনে আটোগুলোতে গায়ের সাথে গা লাগিয়ে বসতে দেখা যায়।

সামাজিক দূরত্ব না মানার বিষয়গুলো সম্পর্কে জেলা প্রশাসক শরীফুল ইসলাম জানান, সামাজিক দূরত্ব না মানার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের এসব বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলায় ভ্রাম্যমান আদালতে মাধ্যমে আবারো জরিমানার পাশা পাশি সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু জরিমানা করে এটা বন্ধ করা সম্ভব নয়। এখানে সাধারন মানুষদেরও বুঝতে হবে এবং সরকারী নির্দেশনা মানতে হবে। তিনি আরো জানান, যারা মাস্ক কেনার সামর্থ্য রাখেননা তাদের মাঝে মাস্কও বিতরণ করা হবে।

এই বিভাগের আরো খবর