বৃহস্পতিবার   ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ৭ ১৪৩২   ০২ রমজান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১৪৯

১৭০ আসনে এনসিপির খসড়া প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত

মোঃ নুর জাহান আক্তার

প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৫  

তরুণদের নিয়ে গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পূর্ণোদ্যমে নির্বাচনি প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে ধরে নিয়ে দলটি ইতোমধ্যেই দেশব্যাপী প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছে।

 

দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপি ও জামায়াত—দুই দলই এনসিপিকে নিজেদের জোটে নিতে আগ্রহ দেখালেও জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দলের শীর্ষ নেতাদের বিরোধপূর্ণ বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। এনসিপির একটি অংশ জামায়াতের সঙ্গে কোনো ধরনের জোট বা নির্বাচনি সমঝোতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

 

জানা গেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের এই রাজনৈতিক দল আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে এ বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিক জোট নয়, তবে অভিন্ন এজেন্ডা ও রাজনৈতিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার কথা ভাবছে দলটি।

 

এক যুগ্ম আহ্বায়ক যুগান্তরকে বলেন, ‘নিজেদের সঙ্গে জোট না করলেও এনসিপি যাতে কোনোভাবেই জামায়াতের জোটে যোগ না দেয়, সেজন্য বিএনপি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। এজন্য দলটির পক্ষ থেকে ঢাকার বেশ কয়েকটি আসনসহ অন্তত ২০টিতে সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।’

 

তিনি আরও জানান, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে মন্ত্রিসভায় এনসিপির প্রতিনিধিত্ব রাখার আশ্বাসও দিয়েছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি দলটি।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, ‘আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অন্য কোনো দলের সঙ্গে জোটে না গিয়ে স্বতন্ত্র অবস্থানে থাকার বিষয়ে বেশির ভাগ নেতাকর্মী মতামত দিয়েছেন। এছাড়া “আসন সমঝোতা” কথাটির সঙ্গেও আমরা একমত নই। তবে অভিন্ন এজেন্ডা, ঐক্য এবং রাজনৈতিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে প্রার্থী মনোনয়ন হতে পারে।’

 

দলীয় সূত্রে আরও জানা যায়, দলের আহ্বায়ক ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একদফার ঘোষক নাহিদ ইসলাম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ডা. তাসনিম জারা, আরিফুল ইসলাম আদিব, সামান্থা শারমিনসহ শীর্ষ কয়েকজন নেতা ঢাকা ও আশপাশের আসন থেকে লড়বেন। সদস্য সচিব আখতার হোসেন রংপুর, সারজিস আলম পঞ্চগড়, হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লা থেকে প্রার্থী হচ্ছেন। এছাড়া উপদেষ্টা পরিষদের দুই সাবেক ছাত্রনেতা পদত্যাগ করে এনসিপিতে যোগ দিলে তাদের জন্যও আসন ও পদ নির্ধারিত রাখা হয়েছে।

 

সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে ঢাকাসহ অন্তত ১৭০ আসনে প্রার্থীর খসড়া তালিকা প্রস্তুত করেছে এনসিপি। এর মধ্যে নাহিদ ইসলাম ঢাকা–৯ বা ১১ আসন, আরিফুল ইসলাম আদিব মিরপুর, ডা. তাসনিম জারা ঢাকা–৩, আকরাম হোসেন মোহাম্মদপুর, রাসেল আহমেদ ঢাকা জেলার একটি আসন, আরিফ ও সোহেল ঢাকা–৭, এসএম শাহরিয়ার ও নিজাম উদ্দিন ঢাকা–৪ ও ৫, আলাউদ্দিন মোহাম্মদ ঢাকা–১৭, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উত্তরা, ফয়সাল মাহমুদ শান্ত ঢাকা–১৯, আসাদুল ইসলাম মুকুল ঢাকা–২০, খান মোরসালিন ঢাকা–৬ থেকে নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে।

 

দলীয় নেতা সামান্থা শারমিন ও নাহিদা সারোয়ার নিভাও রাজধানী ও আশপাশের আসন থেকে নির্বাচনে লড়বেন বলে নিশ্চিত সূত্র জানিয়েছে।

 

এনসিপির ভেতরে ধারণা, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পরও দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় দলের চরিত্র বদলায়নি। বরং বিদ্যমান দলগুলো ক্ষমতাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। নেতাকর্মীদের মতে, “জুলাইয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে এনসিপিকে আরও বহুদূর যেতে হবে। এজন্য বিদ্যমান রাজনৈতিক স্টাবলিশমেন্টের বিরুদ্ধে শক্তভাবে দাঁড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই।”

 

তারা মনে করেন, যদি দলটি ক্ষমতার কেন্দ্রের দিকে ঝুঁকে পড়ে বা পুরনো দলগুলোর সঙ্গে মিশে যায়, তবে এনসিপির অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে। তাই যেকোনো মূল্যে স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রেখে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি।

এই বিভাগের আরো খবর