শনিবার   ২৪ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ১১ ১৪৩২   ০৫ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৬৯

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পিঠা উৎসব

সহিদুল ইসলাম, দুবাই

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬  

 

বাংলাদেশের মতো মরুর বুকেও এখন শীতের আমেজ। এই শীতকে উদযাপন করতে বাহারি পিঠার পসরা সাজিয়ে বসেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী, মুখরোচক আর লোভনীয় বিভিন্ন ধরনের পিঠা নিয়ে আরব আমিরাতের দুবাইতে জমজমাট ‘প্রবাসী পিঠা উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

রোবাবর (২১ জানুয়ারি) বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে এই উৎসব। আমিরাতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে প্রবাসীরা যোগ দেন এই মিলন মেলায় । প্রবাসে দেশের ঐতিহ্য তুলে ধরতে আরব আমিরাতের কয়েকজন নারী উদ্যোক্তা এই পিঠা উৎসবের আয়োজন করে। উৎসবে নারী পুরুষ ও শিশুদের ব্যাপক ভীড় লক্ষ্য করা যায়।

 

এশিয়া রয়েল রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী প্রিন্স হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পিঠা উৎসব উৎযাপিত হয়। নানা রকমের বিভিন্ন রঙের গরম ও শীতের নানা রকমের রসালো পিঠা ও নকশি পিঠা দিয়ে প্রতিটি ষ্টল সাজানো হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তৈরি জনপ্রিয় পিঠা স্থান পায় এই উৎসবে। পিঠার মধ্যে ছিল দুধ চিতই, রস মঞ্জুরি, ঝাল পাটিসাপটা, খলা ঝালি পিঠা, নারকেল নাড়ু, পাটিসাপটা, বাসবুসা পিঠা, ভাপা পিঠা, তেলের পিঠা, ডিম পোয়া পিঠা, পুলি পিঠা, নারকেল পিঠা, নোনাস পিঠাসহ বাহারি নামের ও স্বাদের পিঠা পরিবেশন করা হয়। মেলায় লোপা পিঠা ঘর ছিল আকর্ষণীয় পিঠার সমারোহ । এ সম্পর্কে লোপা পিঠা ঘরের সত্বাধিকারী লোপা শারমীন বলেন  নানা রকম দেশীয় পিঠার আয়োজন আছে এবং সস্তায় পাওয়া যায়।
মেলায় উপস্থিত ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন স্টেটের দর্শনার্থী ও বিভিন্ন কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ। উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগ কল‍্যান পরিষদের সভাপতি মোঃ নাজমুল হোসেন সাঈদ, সিনিয়র সহ সাধারণ সম্পাদক শাহেদ মাষ্টার, সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান সোয়েব, রিপোর্টার্স ইউনিটি, ইউএই সভাপতি সিরাজুল হক, এস টিভির প্রতিনিধি মামুনুর রশিদ, মাইটিভির প্রতিনিধি মহিউল করিম আশিক, গাজী টিভির প্রতিনিধি ফকরুদ্দিন মুন্না সহ অনেকে।


হরেক রকম পিঠার চমৎকার পরিবেশনা নজর কাড়ে অতিথিদেরও। অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন স্টলের মধ্য থেকে বিজয়ী নির্বাচিত করা হয়। তাদের দেওয়া হয় বিভিন্ন উপহার সামগ্রী।


আয়োজকরা জানান, প্রবাসীদের দেশীয় পিঠার স্বাদ দেওয়ার পাশাপাশি প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে দেশীয় পিঠার সঙ্গে পরিচয় করে দিতে তাদের এই আয়োজন। উৎসবে দেশটির কয়েকটি প্রদেশ থেকে ১৪ জন উদ্যোক্তা অংশ নেন। ১০ থেকে ১৫ ধরনের পিঠা দিয়ে সাজানো ছিল একেকটি স্টল। বিদেশের মাটিতে দেশীয় পিঠা উৎসবের আমেজ তৈরি করতে পেরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন আয়োজকরা। পিঠা উৎসবে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারায় অনেক প্রতিযোগীকে উচ্ছ্বাস করতে দেখা যায়। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে আমিরাত যেন সবার কাছে একটি দিনের জন্য হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ। পিঠা ছাড়া ও দেশীয় কাপড়ের স্টল ছিল নজর কারার মত।

এই বিভাগের আরো খবর