শুক্রবার   ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ১ ১৪৩২   ২৫ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৪১৩

ইসলামপুরে ২২৫ টাকার ট্রেনের টিকিট ১২শ থেকে ১৫শত টাকায় বিক্রি

শারমিন আক্তার,

প্রকাশিত: ৮ আগস্ট ২০২০  

রেলের টিকিট অনলাইনে অপেন করার সাথে সাথে নাই। জামালপুরের ইসলামপুর রেলস্টেনে ট্রেনের টিকিট বিক্রি হচ্ছে কলোবাজারে। প্রকাশ্যে আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ও ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের ২২৫ টাকার একটি টিকিট এখন ১২শ থেকে ১৫শত টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। উপায়ন্তর না দেখে বাধ্য হয়েই যাত্রীদের চড়া দামে এসব টিকিট কিনতে হচ্ছে।

জানা গেছে,করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সিমিত পরিসরে ট্রেন চলাচলের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছেন সরকার । এরই প্রেক্ষিতে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ,দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রেল পথের জন্য দুটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হয়।

ইসলামপুর বাজার স্টেশনে আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের ৪৯টি আসনের মধ্যে শোভন চেয়ার ৩০টি প্রতিটি টিকিটের মূল্যে ২২৫ টাকা,এসি চেয়ার ১৫টি প্রতিটি টিকিটের মূল্যে ৪২৬ টাকা এবং ৪টি কেবিন রয়েছে যার প্রতিটির মূল্যে ৫১২ টাকা ও ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের আসন রয়েছে শোভন ৬০টি প্রতিটির মূল্যে ১৮৫ টাকা ও শোভন চেয়ার রয়েছে ৭টি যার প্রতিটি মূল্যে ২২৫ টাকা।

রেলের টিকিট অনলাইনে অপেন হওয়ার সাথে সাথেই রেলে কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজসে খবর পাচ্ছে কালোবাজারীরা। এত করে টিকিট কালোবাজারিরা আগে থেকেই প্রতিদিন মোবাইল এপস এর মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কেটে নিচ্ছে। পরবর্তীতে বিভিন্ন কারসাজিতে অতিরিক্ত দামে এসব টিকিট চড়া দামে বিক্রি করছে। প্রভাবশালী হওয়ায় কালোবাজারীদের নাম বলতে সাহস পাচ্ছে না কেউ।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে ইসলামপুর বাজার রেলওয়ে স্টেশনে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় , গন্তব্যের উদ্দেশে প্লাটফর্মে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন হাজারও যাত্রী। অধিকাংশ যাত্রীদের কাছে নেই ট্রেনের টিকিট। যাদের কাছে রয়েছে তারাও কিনেছেন চড়া দামে।

ইসলামপুর পৌর শহরের মোশারফগঞ্জ এলাকার রনি মিয়া নামে এক গার্মেন্টস কর্মী বলেন,“টিকিট যেন শোনার হরিন, আমি একটা কিটিক কিনেছি ১২শত টাকায়। এই টিকিটের মূল্যে দেওয়া আছে ২২৫টাকা। চাকরী বাঁচানোর তাগিতেই এই টিকিট কিনেছি আমি।”

গুঠাইল এলাকার মোন্জুর রহমান নামে এক রিকসা চালক বলেন,“অনলাইন কি আমি বুঝিনে, এখানে আসার পরে এক টিকিটের দাম কেউ ১২শ টাকা চায় আবার কেউ ১৫শ টাকা চায়। আমার এত টাকা দিয়ে টিকিট কেনার মতো মতা নেই, তাই বাড়িতে ফিরে গেলাম।”

পচাবাহলা এলাকার খোরশেদ আলম ও জলভাশা নামে দুই গার্মেন্টস কর্মী বলেন,“ সব টিকিট কালোবাজারীরা অনলাইনে কিনে রাখে। আমরা কিনার সুযোগ ই পাইনা। আজ থেকে আমাদের ঈদের ছুটি শেষ তাই আমাদের ঢাকাতে যেতেই হবে। বাধ্য হয়ে আমরা ২২৫ টাকার টিকিট ১২শ টাকায় কিনলাম।”

ইসলামপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. মিজানুর রহমান বলেন, “ট্রেনের টিকিট তো অনলাইনে বিক্রি হয় তাই আমাদের তো এখন আর কিছু করার নেই। যদি কেউ প্লাটফর্মে এসে টিকিট বিক্রি করে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিবো”।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “টিকিট এখন অনলাইনে বিক্রি করা হয় আমাদের কিছু করার নেই। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোন কালোবাজারী ট্রেনের টিকিট বিক্রি করলে আমরা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব”।

এই বিভাগের আরো খবর