বৃহস্পতিবার   ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ৩০ ১৪৩২   ২৪ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১৫

নির্বাচনের ফলাফল কীভাবে গণনা ও ঘোষণা হয়

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সারাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ চলছে। বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণের পর শুরু হবে গণনা ও ফলাফল ঘোষণা। অনেকে প্রশ্ন করছেন—ফলাফল পরিবর্তন করে আরেকজনকে বিজয়ী ঘোষণা করার সুযোগ আছে কি না? অথবা রেজাল্টে কারচুপির সুযোগ কতটা?

 

নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী বলেন, নির্বাচনের ফলাফল কয়েকটি ধাপে প্রস্তুত করতে হয়। প্রতিটি ধাপে প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট, পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতি থাকে। এ কারণে কারচুপি বা রেজাল্ট পরিবর্তন করা অত্যন্ত কঠিন। তবে অতীতে বিরোধী এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। এবারের নির্বাচনে সেই ইতিহাস পুনরাবৃত্তি না হওয়ার জন্য কঠোর নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

যেভাবে ফলাফল গণনা ও ঘোষণা হয় 

 

  1. ভোটগ্রহণ শেষ
    • বিকাল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ। কেন্দ্রের ভেতরে ভোটার থাকলে সাড়ে ৪টার পরও ভোট চলবে।
    • প্রতিটি কক্ষের ব্যালট বাক্স প্রার্থীদের এজেন্টদের সামনে লক করা হয়।
  2. গণনা কক্ষে ব্যালট খোলা
    • প্রতিটি কেন্দ্রে আলাদা গণনা কক্ষে ব্যালট বাক্স খোলা হয়।
    • উপস্থিত থাকেন: প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার, প্রতিটি প্রার্থীর একজন করে পোলিং এজেন্ট, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক।
    • ব্যালট বাক্সের নম্বর ও লক নম্বর মিলিয়ে নেওয়া হয়।
  3. দুই ধরনের ব্যালট আলাদা করা
    • সংসদ নির্বাচনের সাদা ব্যালট ও গণভোটের গোলাপি ব্যালট আলাদা করা হয়।
    • ছেড়া, সিল না থাকা বা স্বাক্ষরবিহীন ব্যালট বাতিল হিসেবে গণ্য করা হয়।
  4. প্রতীকভিত্তিক গণনা
    • প্রতিটি ব্যালট টালি করে গণনা করা হয়।
    • গণভোটের ব্যালট ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ দুই ভাগে আলাদা করা হয়।
    • গণনা দুইটি টিম করে করা হলে সময় কম লাগে।
  5. রেজাল্ট শিট প্রস্তুত
    • নির্বাচন কমিশনের ১৬ নম্বর ফরমে রেজাল্ট শিট তৈরি করা হয়।
    • ভোটের সংখ্যা অংকে ও কথায় দুইভাবে লেখা হয়। কাঁটাছেড়া করা যায় না।
    • মোট ভোট, বাতিল ভোট, বৈধ ভোট ও প্রার্থীদের ভোটের সংখ্যা মিল থাকতে হবে।
    • প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং এজেন্টরা স্বাক্ষর করেন।
  6. রেজাল্ট শিটের বিতরণ
    • একটি কপি কেন্দ্রের নোটিশ বোর্ডে টানানো হয়।
    • দুটি কপি ব্যালট বস্তায় সিলগালা করে রাখা হয়।
    • একটি কপি প্রিসাইডিং অফিসার নিজের কাছে রাখেন।
    • একটি কপি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়।
    • প্রার্থীদের এজেন্ট, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের চাইলে কপি দেওয়া হয়।
  7. কেন্দ্র থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে
    • প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার, পুলিশ ও আনসারের নিরাপত্তায় ফলাফল ও ব্যালট নিয়ে যাওয়া হয়।
    • সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা/উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা) ফলাফল জমা দেওয়া হয়।
  8. কন্ট্রোল রুমে মাইকে ঘোষণা
    • কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল প্রার্থীদের এজেন্টদের উপস্থিতিতে মাইকে ঘোষণা করা হয়।
  9. পোস্টাল ব্যালট গণনা
    • পোস্টাল ব্যালট আলাদাভাবে গণনা করা হয়।
    • প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট উপস্থিত থাকেন।
  10. চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা
    • রিটার্নিং কর্মকর্তা ফলাফল ঘোষণা কেন্দ্রে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন।
    • প্রার্থীদের এজেন্ট বা প্রার্থীরা উপস্থিত থাকতে পারেন।

পুনঃগণনা ও আপত্তির সুযোগ

 

  • কোনো প্রার্থীর আপত্তি থাকলে নির্বাচন কমিশনে পুনঃগণনার আবেদন করতে পারেন। কমিশন অনুমতি দিলে পুনঃগণনা হয়।
  • ফলাফল নিয়ে আপত্তি থাকলে ভোট শেষ হওয়ার পর নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করা যায়।

 

সারসংক্ষেপ প্রতিটি ধাপে প্রার্থীদের এজেন্ট, পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতি থাকায় ফলাফল পরিবর্তন বা কারচুপির সুযোগ প্রায় নেই। অতীতে এজেন্ট বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও এবার কঠোর নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুটি ব্যালটের কারণে গণনায় কিছুটা সময় বেশি লাগতে পারে, তবে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে ফলাফল নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য হবে।

এই বিভাগের আরো খবর