বৃহস্পতিবার   ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ৩০ ১৪৩২   ২৪ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১৯

অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কায় স্বর্ণ ও রুপার দাম ঊর্ধ্বমুখী

শিল্প-বাণিজ্য ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

সম্প্রতি বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুর দামে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা গেলেও আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে স্বর্ণ ও রুপার দাম। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫,০৩৮.৭৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই দিন এপ্রিল ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫,০৬০.৬০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

 

রুপার বাজারেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৮১.৪৯ ডলারে পৌঁছেছে। আগের সেশনে ৩ শতাংশের বেশি পতনের পর এটি ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিসেম্বর মাসের খুচরা বিক্রয় স্থবির থাকার তথ্য প্রকাশের পর মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন কমে যাওয়ায় স্বর্ণ ও রুপার দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। এটি অর্থনীতির গতি মন্থর হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন কার্যক্রম কমেছে।

 

ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির দিকনির্দেশনা বোঝার জন্য বিনিয়োগকারীরা এখন জানুয়ারি মাসের নন-কৃষি বেতন প্রতিবেদন ও শুক্রবার প্রকাশিতব্য মুদ্রাস্ফীতির তথ্যের দিকে নজর রাখছেন। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব ক্লিভল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যাম্যাক বলেছেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তিনি ‘সতর্কভাবে আশাবাদী’ এবং চলতি বছর সুদের হার নির্ধারণে ফেডের তাড়াহুড়ো করার কোনো প্রয়োজন নেই।

 

বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, ২০২৬ সালে অন্তত দুটি ২৫-বেসিস-পয়েন্ট সুদের হার কমানো হবে, যার প্রথমটি জুন মাসে হতে পারে। সাধারণত সুদের হার কম থাকলে অফলনশীল সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে। এদিকে শিল্প খাতের তথ্য অনুযায়ী, ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে জানুয়ারি মাসে ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন। এই প্রবাহ প্রথমবারের মতো ইক্যুইটি ফান্ডে বিনিয়োগের পরিমাণকেও ছাড়িয়ে গেছে।

 

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বুধবার স্পট প্ল্যাটিনামের দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ২,০৯৮.৭৮ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে প্যালাডিয়ামের দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১,৭১২.২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন অর্থনীতি ধীর হয়ে আসতে পারে—যা ফেডারেল রিজার্ভকে সুদের হার কমানোর বিষয়ে আরও নমনীয় অবস্থান নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। উৎপাদন কমে গেলে ধাতু ধারণের খরজও কমে, যা স্বর্ণ ও রুপার মতো মূল্যবান ধাতুর জন্য ইতিবাচক সংকেত। ডিসেম্বরে মার্কিন খুচরা বিক্রয় অপ্রত্যাশিতভাবে অপরিবর্তিত ছিল। পরিবারগুলো মোটরগাড়ি ও অন্যান্য বড়-মূল্যের পণ্যে ব্যয় কমিয়ে দেওয়ায় নতুন বছরের শুরুতেই ভোক্তা ব্যয় ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর