প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ১২:৪৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
নোয়াখালী সদর উপজেলার দত্তেরহাটে অবস্থিত 'ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল'-এ তথাকথিত 'ভুল চিকিৎসায়' ১৩ বছর বয়সি মো. মোসলেম নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর নোয়াখালী জেলার সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন হাসপাতালটি পরিদর্শন করে ফাঁকা পেয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে তা বন্ধ ও সিলগালা করে দেন।
এ ঘটনার পর শিশুটিকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও চিকিৎসা প্রদানকারী ডিপ্লোমাধারী সিনিয়র অপটোমেট্রিস্ট আবুল হোসেনকে স্বজনদের সহায়তায় আটক করেছে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ। মারা যাওয়া মোসলেম লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চরবসু গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে।
স্বজনরা জানান, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে খেলার সময় চোখে আঘাত পেয়ে রক্ত জমে গেলে মোসলেমকে স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে দত্তেরহাটের ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখার পর আবুল হোসেন শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান এবং চোখের ড্রপ বা ইনজেকশনের মাধ্যমে অবশ করার চেষ্টা করেন। ইনজেকশন দেওয়ার পরই শিশুটি বমি করতে শুরু করে, মুখে ফেনা এসে অবচেতন হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে অভিযুক্ত আবুল হোসেন দাবি করেন, চোখের ওপরের ও নিচের পাতা ফুলে থাকায় পরীক্ষা করার জন্য 'জেসোকেইন' ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাতেই শিশুটির খিঁচুনি ওঠে। এদিকে নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কোনো অপটোমেট্রিস্টের সার্জারি করা বা চোখ অবশ করার ইনজেকশন প্রয়োগের আইনি সুযোগ নেই। তাঁরা কেবল সাধারণ চশমার প্রেসক্রিপশন ও চোখ পরীক্ষা করতে পারেন। এ ছাড়া সদর উপজেলার সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, নানা অনিয়মের দায়ে ২০২৪ সালের ৮ জুন এই হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত আবুল হোসেনকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা ও তদন্ত কমিটি গঠন করে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন