শুক্রবার   ০১ জুলাই ২০২২   আষাঢ় ১৬ ১৪২৯   ০১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৫৯

নিজস্ব জমি না থাকায় পাবলিক লাইব্রেরির বই ৫ বছর ধরে প্যাকেটবন্দি!

তরুণ কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২  

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার প্রায় শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী বিরামপুর পাবলিক লাইব্রেরি নিজস্ব জমি না থাকায় প্রায় ৫ বছর ধরে বইপত্র প্যাকেটবন্দি অবস্থায় রয়েছে। এতে সব শ্রেণির পাঠক পাবলিক লাইব্রেরির বিনামূল্যে বইপড়া থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।


বিরামপুর পাবলিক লাইব্রেরির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আবু তাহের জানান, ১৯৩৫ সালে বিরামপুর পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই সময় থেকে বিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভবনে এটি চালু ছিল। ক্রমাগত এই পাবলিক লাইব্রেরির বইয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় ও পাঠকসংখ্যাও ছিল অনেক। স্বাধীনতার সময় বই ও আসবাব বিনষ্ট হয়ে যায়। পরে স্থানীয় সৃজনশীল ব্যক্তিদের প্রচেষ্টায় এটিকে আবারও পুনরুজ্জীবিত করা হয়। ব্যক্তিগত সহযোগিতা ও সরকারি সহায়তায় প্রায় দেড় সহস্রাধিক বই পাঠকদের জন্য সাজিয়ে রাখা ছিল। পাঠকদের বসার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ও আসবাবপত্র ছিল। সেখানে প্রতিদিন অসংখ্য পাঠক এসে বই পড়ার মাধ্যমে জ্ঞানার্জন ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে অবসর সময় পার করতেন।

 

১৯৯৫ সালে বিরামপুর পৌরসভা হিসাবে গঠিত হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের জমিটি পৌরসভার নিয়ন্ত্রণে আসে। বিরামপুর পৌরসভা ২০১৭ সালে ওই স্থানে পৌর মার্কেট নির্মাণ শুরু করে। সে সময় তৎকালীন পৌর মেয়র বিরামপুর পাবলিক লাইব্রেরিকে মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ঘর বরাদ্দ দিবে মর্মে চুক্তিপত্র সম্পাদন করে এবং পাবলিক লাইব্রেরির আসবাব ও বই পুস্তক পৌরসভায় গচ্ছিত রাখেন।

২০১৭ সালে পৌর মার্কেট নির্মাণ শুরু হলেও একতলা পর্যন্ত নির্মিত হওয়ার পর বিভিন্ন অভিযোগে ও আইনি জটিলতায় নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জায়গা না পাওয়ার কারণে ৫ বছর ধরে পৌরসভার গুদাম ঘরে প্যাকেটবন্দি অবস্থায় আবদ্ধ পাবলিক লাইব্রেরির বইপত্র আর আলোর মুখ দেখছে না। সব শ্রেণির পাঠক পাবলিক লাইব্রেরির বিনামূল্যে বই পড়া থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

 

বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরিমল কুমার সরকার জানান, বিরামপুর পাবলিক লাইব্রেরি ও শিল্পকলা একাডেমির জন্য জায়গা বরাদ্দের আবেদন মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে।

পৌরসভার বর্তমান মেয়র অধ্যক্ষ আক্কাস আলী বলেন, বিষয়টি নিয়ে লাইব্রেরি কমিটির সাথে কথা হয়েছে এবং যত দ্রুত সম্ভব পাবলিক লাইব্রেরির জন্য একটি জায়গার ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলা চেয়ারম্যান খায়রুল আলম রাজু বলেন, বিরামপুর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের পাশে পাবলিক লাইব্রেরির জন্য সরকারি জায়গা বরাদ্দের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত পাবলিক লাইব্রেরি চালুর ব্যবস্থা করা হবে।

এই বিভাগের আরো খবর