রোববার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২   আশ্বিন ১০ ১৪২৯   ২৮ সফর ১৪৪৪

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১৬

২০নং ওয়ার্ডে পুরুষশূন্য প্রবাসীদের কিশোর গ্যাংয়ের হামলা আহত ৬জন 

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২  

গত ১২সেপ্টেম্বর সোমবার বিকেল থেকে ১৬সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কুমিল্লা নগরীর সদর দক্ষিণ ২০নং ওয়ার্ডের কাজীপাড়া ফরাজী বাড়ি এলাকায় চাঁদার দাবীতে প্রবাসী পরিবারে ওপর দফায় দফায় হামলা, মারধর, লুটপাট, ভাংচুর ও শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী প্রবাসী পরিবারের ২জন লন্ডনে ও ২জন ইতালী থাকায় পুরুষ সদস্য বলতে পরিবারে কেবল ১ভাই ও ৯৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ পিতা মাতা পত্রবধু ও নাতি নাতনিদের নিয়ে বাড়িটিতে বসবাস করেন।

সরেজমিনে ঘুরে, ভুক্তভোগী পরিবার, স্থানীয় প্রতিবেশী, স্বজন ও পুলিশের বরাত দিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি মহল প্রবাসী পরিবারটির কাছে নানা ছুতোয়ায় চাঁদা দাবি করে আসছিলো। এর প্রেক্ষিতে গত সোমবার তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার কতিপয় ক'জন সাহেব সর্দারের ইন্দন ও প্রকাশ্য মদদে অর্ধ শতাধিক কিশোর সন্ত্রাসীরা বৃদ্ধ হাসমত ফরাজির বাড়িঘরে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এসময় বাঁধা দিতে গিয়ে প্রতিবেশী ২নারী ও প্রবাসীর স্ত্রীসহ ৪নারী এবং হাসমত ফরাজীর ছেলে মোফাজ্জল হোসেন সহ গুরুতর আহত হয় ৬জন। আহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা সদর ও কুমেক সহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মাঝে তিনজন এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছে। গুরুতর আহত মোফাজ্জল এর স্ত্রী জানায় তার স্বামীর হাতের অপারেশন করানো হবে রবিবার। হামলার এখানেই শেষ নয়,  এরপর আরো কয়েক দফায় হামলা চালানো ও হুমকি ধমকি অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ  প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যদের । 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ চাঁদা না দিলে এলাকায় বসবাস করতে দেয়া হবে না বলেও প্রকাশ্য হুমকি দেয়া হয় বারবার। সন্ত্রাসীদের ভয়ে বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা। এমন কি প্রবাসীদের কন্যারা স্কুলে যাওয়ার সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে উত্ত্যক্ত করার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের হুমকিও দিচ্ছে বখাটেরা । ভয়ে বাজার করতেও যেতে পারছেন না পরিবারের কেউ। এ ঘটনায় প্রবাসীর পরিবার থানায় মামলা দায়ের করলে।  গতকাল শুক্রবার বিকেলে ফের হামলা চালায় কিশোর গ্যাং এর নেতৃত্ব দেয়া এবাদুল, শাহপরান, মিজান, হারুন, সালাম, ফারুক, মমতাজ, হান্নান, তবারক ও জিহাদ সহ অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী হামলা চালায় প্রবাসী পরিবারটির ওপর । 

 

এসময় দেশীয় অস্ত্র ও ইট পাটকেল নিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। আহত ও ভুক্তভোগী প্রবাসী পত্নী হাজেরা আক্তার জানান, ৯৫বছর বয়সী বৃদ্ধ শশুর ছাড়া বাড়ির একমাত্র পুরুষ সদস্য মোফাজ্জলকে পিটিয়ে হাত ও বর্নকলার ভেঙ্গে দেওয়াসহ  ৬জনকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে আহত করা হয়। এরপর শুক্রবার বিকেলে আবারো ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে একই কিশোর গ্যাংয়ের সন্ত্রাসীরা। অর্ধশতাধিক হামলাকারীদের মাঝে অপরিচিত বহিরাগত আনুমানিক ২০/২৫ জন হুড়মুড়িয়ে বাড়ির গেইট খুলে ঘরের ভেতরে ঢুকে পরে। এসময় ঘরের শিশু ও বৃদ্ধ হাসমত ফরাজীর গলায় ছুড়ি ধরে হত্যার ভয় দেখিয়ে নারীদের কাছ থেকে আলমীরা ও ড্রয়ারের চাবি ছিনিয়ে নিয়ে স্বর্ণালংকার, নেকলেস, চেইন, কানের, জিনিস সহ নগদ ৫লক্ষাধিক টাকা লুটে নেয় সন্ত্রাসীরা। বাড়িতে ধ্বংসাত্মক হামলা চালিয়ে বাড়ির প্রতিটি থাই গ্লাস সহ ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর ও ঘরে লুটপাট চালানো হয়। তিনি আরো জানান, হামলার শিকার পরিবারের সদস্যদের সাথে ভাংচুরকারীদের সাথে কোন পূর্ব শত্রুতার ঘটনা আছে বলেও তারা জানেন না, এমনকি বেশির ভাগ লোককেই চেনেন না। হামলা ও লুটপাটের সময় একজন কৌশলে  ৯৯৯এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার আগেই ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে হামলাকারী কিশোরদের সন্ত্রাসী বাহিনী। একের পর এক নৃশংস ঘটনা ও হামলার পর থেকে প্রাণের ভয়ে বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে জানান। আহতদের দেখতে কিংবা বাজার পর্যন্ত করতে বেরুতে পারছেন না। ইতালি ও লন্ডন থেকে ৪ প্রবাসীরা প্রতিবেদকের সাথে যোগাযোগ করে পরিবারের জান মালের নিরাপত্তা চেয়ে জেলা পুলিশ সুপার, সংশ্লিষ্ট মহল ও সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

 

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে, অভিযুক্তদের কয়েকজনের বাড়িতে খোঁজ করে তাদের কাউকেই পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্ত হারুনের বাড়ি গিয়ে তাকে না পাওয়া গেলেও পাওয়া যায় তার স্ত্রীকে। এসময় তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন তার স্বামী বা সন্তাদের কেউ এ হামলার সাথে জড়িত নয়। প্রতিবেশি মিজান মিয়ার ছেলে শাহপরান বহিরাগত লোকজন এনে হামলা চালিয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। ভুক্তোভোগীদের সহায়তা না করায় মিথ্যা মামলায় তার স্বামী সন্তানদের আসামী করা হয়েছে বলেও জানান হারুনুর রশিদের স্ত্রী। 

এবিষয়ে নগরীর ২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি মুলত একটি সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে। এর আগে কয়েক বার সমস্যা সমাধানের চেষ্টাও করা হয়। পরে স্থানীয় ভাবে সমাধান সম্ভব না হওয়ায় এলাকায় দুটো পক্ষ হয়। মনে হচ্ছে সেই বিরোধকে কেন্দ্র করেই নতুন ভাবে এ ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেছি। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। এখানে পক্ষ বিপক্ষে যেই হোক সকলেই আমার এলাকার লোক। যারা মারধর হামলা ও ভাংচুর করেছে তারা যেই হোক তাদের কঠোর বিচার করা হবে। এমন আর কোন ঘটনা যেন না ঘটে সে বিষয়ে এলাকার সকলকে সাবধান করা হয়েছে। এমন কোন বিশৃঙ্খলা আবার কেউ করলে প্রশাসনের মাধ্যমে আইনানুগ যে ব্যবস্থা নেয়া দরকার তা নেয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে সকলকে।

 

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেবাশীষ চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের মোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক ভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শনিবার বিকেলেও ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িতে গিয়ে আহতদের খোঁজ খবর নেয়া হয়েছে। গতরাতে অভিযান চালিয়ে ২আসামীকে কে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ঐ এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সার্বক্ষণিক পুলিশী নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ।

এই বিভাগের আরো খবর