বৃহস্পতিবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২১   অগ্রাহায়ণ ১৭ ১৪২৮   ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১৪৪

বৃত্তি শাখা ও আইসিটি দপ্তরের অবহেলায় ভোগান্তিতে জবির নবীন শিক্ষার

মাহির আমির জবি প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ নভেম্বর ২০২১  

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুলাই ২০২১  রেজিস্ট্রার দপ্তর ও বৃত্তি শাখা থেকে আইসিটি সেল বরাবর ১৭৫ জন অবৈতনিক ও ৯৩৯ জন শিক্ষার্থীর এককালীন বৃত্তির তালিকা প্রকাশ করার জন্য পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আইসিটি সেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র মেধা ক্যাটাগরির ৯৩৯ জন শিক্ষার্থীর তালিকা প্রকাশ করে। 

রেজিস্ট্রার দপ্তরের সূত্রে জানা যায়, ৯৩৯ জন শিক্ষার্থীকে ৪০০ টাকা করে মাসিক এক বছরের জন্য জনপ্রতি ৪৮০০ টাকা প্রদান করা হয়েছে। যা সর্বমোট ৯৩৯ জন শিক্ষার্থীকে ৪৫ লক্ষ ৭হাজার ২'শত টাকা প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সে সাথে ১৭৫ জন শিক্ষার্থীকে অবৈতনিক বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। তা এখনো বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট প্রকাশ করা হয়নি। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি শাখার তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় , মেধা ও অবৈতনিক তালিকার ফাইল গত ১২ জুলাই আইসিটি সেলে পাঠানো হয়েছে। তবে,  এতোদিনে আইসিটি সেল কেন ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের অবৈতনিক বৃত্তির তালিকা প্রকাশ করেনি তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

শিক্ষার্থীরা বলেন, যথাসময় থেকে মেধাবী কোটায় বৃত্তি প্রাপ্ত তালিকার স্ব স্ব সকলে চেক সমূহ উত্তোলন করে নিয়ে যায়। কিন্তু অবৈতনিক তালিকা সমূহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি শাখা অথবা আইসিটি সেলের কেউ প্রকাশ না করায় এখনো অবধি কোনো শিক্ষার্থী এবিষয়ে অবগত হতে পারেনি। 

২০১৯-২০ বর্ষের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী রাহুল আহমেদ বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটা বৃত্তি পেয়েছি অথচ এখনো সেটা আমরা জানি না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রশাসংনীয় একটা কাজকে বৃত্তি শাখা ও আইসিটি সেলের কর্মকর্তারা এভাবে বির্তকিত করবে সেটা আমরা বুঝতে পারি নাই। 

২০১৯-২০ বর্ষের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী বিভো চন্দ্র বলেন, বৃত্তি শাখায় ও আইসিটি দপ্তরের সাথে আমরা একাধিক বার যোগাযোগ করলেও আমাদের নাকচ করে দিয়ে বলে এসব অবৈতনিক বৃত্তি তালিকা অনেক আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এখনো পর্যন্ত কোনো বিভাগ বা শিক্ষার্থী এই তালিকা পায়নি ওয়েবসাইটে। 

শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, বৃত্তি শাখায় গেলে আমরা বেশিরভাগ সময় রুম খোলা অবস্থায় দেখি কিন্তু কাউকে অফিস সময়ে পাওয়া যায় না। এছাড়াও, বৃত্তি শাখায় অবৈতনিক বৃত্তির তথ্য জানতে গেলে একাধিকবার আমাদের কোনো কথার জবাব তো দেয়নি বরং গড়িমসি করেছে তারা। 

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার দপ্তর এই বৃত্তির ফলাফল ঘোষণা করেছে প্রায় পাঁচ মাস আগে অথচ এখনো কোনো শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কেউ তালিকা জানতে পারেনি। 

অবৈতনিক বৃত্তি তালিকা জানার জন্য একাধিকবার আইসিটি সেলে ফোন ও ইমেইল করা হলেও অফিস সময়ে হাফিজ বা অন্য কাউকে পাওয়া যায় নি। বরং ইমেইল রিপ্লাই আসে, বৃত্তি শাখায় যোগাযোগ করতে। কিন্তু বৃত্তি শাখায় গেলে তারা শিক্ষার্থীদের বারবার আইসিটি সেলে যোগাযোগ করতে বলে। বরাবরের মতো দু'পক্ষই একে -অপরের উপর দায়ভার চাপিয়ে দেয়।  

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মোঃ অহিদুজ্জামানের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও কোনোভাবে সংযোগ স্থাপন করা যায় নি। 

এই বিষয়ে আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড.  উজ্জ্বল কুমার আচার্য্য বলেন, আমরা অনেক আগে ওয়েবসাইটে তালিকা দিয়ে দিয়েছি। কিন্তু এতোদিনে এটা কেন ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে না বলতে পারছি না। এই বিষয়টা আমাদের সেলের হাফিজ দেখাশোনা করে তাকে আমি বিষয়টা অবিহিত করবো শীগ্রই। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যায়। 

এই বিভাগের আরো খবর