প্রকাশিত: ৮ ঘন্টা আগে, ১০:১৬ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
দেশজুড়ে চলমান তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিং। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে বিদ্যুতের এই চরম সংকটে সাধারণ মানুষের জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। শহর এলাকায় পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় হলেও গ্রামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাকে ইঙ্গিত করে শ্লেষাত্মক প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেন তিনি। আসিফ মাহমুদ প্রশ্ন করেন, ‘মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ যায়? না কি মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ আসে?’ তাঁর এই ছোট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ পোস্টটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়, যেখানে শত শত নেটিজেন কমেন্ট করে নিজেদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেছেন।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিবি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করলে বিদ্যুৎ সংকটের একটি স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায়। মঙ্গলবার রাত ৯টার পিক আওয়ারে ভারতের আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে ১ হাজার ৪৪৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এলেও বুধবার দুপুর ১২টার ডে পিকে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৭৫১ মেগাওয়াটে। অর্থাৎ দিনের প্রধান সময়ে আমদানিকৃত বিদ্যুতের সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে লোডশেডিংয়ের ওপর। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পিক আওয়ারে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৮৪০ মেগাওয়াট। কিন্তু বুধবার দুপুরের তপ্ত রোদে সেই লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ২৭১ মেগাওয়াটে। অসহ্য গরমের মধ্যে দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে কলকারখানার উৎপাদন ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। আবহাওয়া অফিস বলছে, আপাতত তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা নেই; ফলে বিদ্যুতের চাহিদা ও লোডশেডিংয়ের এই সংকট আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন