প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৪:২৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে অগণতান্ত্রিক ও একটি ‘সিলেক্টিভ প্রসেস’ বা নির্বাচনী প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন। তিনি বলেন, “কয়েকজনকে নিয়ে আপনারা বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গণতন্ত্র এখানে কোথায় ছিল? বাইরে থেকে এখানে কেউ কথা বলতে পারেনি।”
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংস্কার: সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, আদালতের নির্দেশনা ও জনআকাঙ্ক্ষা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এই সভার আয়োজন করে।
কমিশনে লিঙ্গ বৈষম্য ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ
সারা হোসেন তার বক্তব্যে ঐকমত্য কমিশন এবং বিচারব্যবস্থা সংস্কার কমিশনে নারী সদস্য বা আইনজীবীদের সম্পৃক্ত না করায় তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ঐকমত্য কমিশনে একজনও নারী সদস্য ছিলেন না। বিচারব্যবস্থা সংস্কার কমিশনেও কোনো নারী আইনজীবী বা বিচারপতিকে কেন রাখা হয়নি?”
সাম্প্রতিক গণভোটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ভোটের তৃতীয় প্রশ্নের ৩০টি প্রস্তাব সম্পর্কে জনগণের কোনো স্বচ্ছ ধারণা ছিল না। উপস্থিতদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “আপনারা কীসের জন্য ভোট দিয়েছেন, তা নিজেরাও জানেন কি না তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। প্রস্তাবগুলো কী ছিল তা না জেনে ভোট দেওয়ার মূল্য কতটুকু?”
বিচার বিভাগ ও রাজনৈতিক হয়রানি
সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে জোরপূর্বক দেশত্যাগে বাধ্য করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এত বছর পার হলেও নাগরিক সমাজ এ নিয়ে জোরালো দাবি তোলেনি। একইসাথে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের চাপে আপিল বিভাগের দক্ষ বিচারকদের পদত্যাগে বাধ্য করার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর রায় প্রদানকারী সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জুলাই হত্যা মামলায় জড়ানোর কড়া সমালোচনা করে সারা হোসেন বলেন, “বিচারপতি খায়রুল হককে মিথ্যাভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। বলা হচ্ছে তিনি দাঁড়িয়ে গুলি চালিয়েছেন বা নির্দেশ দিয়েছেন, অথচ এখন পর্যন্ত কোনো চার্জশিট নেই। এই অন্যায় নিয়ে নাগরিক সমাজ, বার কাউন্সিল বা বার সমিতি—সবাই চুপ করে আছে।”
সংস্কারের প্রস্তাব
বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন আমলের ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ’ এবং ‘সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ’ পুনর্বহাল করার পক্ষে মত দেন এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম এ মতিনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, আইনজীবী ইমরান সিদ্দিকী ও ফাহিম মাশরুর। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। উপস্থিত বক্তারা বিচার বিভাগের ওপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং প্রকৃত সংস্কারের ওপর জোর দেন।
মন্তব্য করুন