তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ১০:৫২ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থী হত্যা

‘কালো ময়লার ব্যাগে ভরে ফেললে কী হয়’—অভিযুক্তের প্রশ্ন চ্যাটজিপিটিকে

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হিশাম আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার হিলসবরো কাউন্টি আদালত অভিযুক্তকে জামিন না দিয়ে কারাগারে আটক রাখার নির্দেশ দেয়। ২৭ বছর বয়সী লিমন ও বৃষ্টি প্রায় দুই সপ্তাহ আগে নিখোঁজ হন। তদন্তকারীরা লিমনের লাশ উদ্ধার করলেও বৃষ্টির লাশ এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

আদালতে সরকারি কৌঁসুলিরা হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে একটি বিস্তারিত সময়রেখা উপস্থাপন করেছেন। তাতে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। কৌঁসুলিরা জানান, হিশাম আবুঘরবেহ চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথোপকথনে জিজ্ঞাসা করেন, ‘কোনো মানুষকে কালো ময়লার ব্যাগে ভরে ডাম্পস্টারে ফেলে দিলে কী হয়?’ পরে আবার প্রশ্ন করেন, ‘এটা কীভাবে ধরা পড়বে?’

আদালতের নথি অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল বৃষ্টি ও লিমনের সঙ্গে সর্বশেষ বন্ধুদের যোগাযোগ হয়। সেদিন সন্ধ্যার পর লিমনের ফোন লোকেশন ক্লিয়ারওয়াটার এলাকায় দেখা যায়। একই সময়ে অভিযুক্তের গাড়িও সেখানে ছিল। রাত ১০টার দিকে হিশামের ফোন থেকে ডোরড্যাশের মাধ্যমে আবর্জনার ব্যাগ ও পরিষ্কারের সামগ্রী কেনা হয়। রাত ১টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টার মধ্যে হিশামকে একাধিকবার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড সেতু এলাকায় যাতায়াত করতে দেখা যায়।

 

১৭ এপ্রিল

লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। হলফনামায় বলা হয়েছে, ওই দিন হিশাম চ্যাটজিপিটির কাছে জানতে চান, ‘হিলসবরো রিভার স্টেট পার্কে কি গাড়িতে তল্লাশি করা হয়?’ রাতে তিনি আবারও ফ্রাঙ্কল্যান্ড সেতুতে যান। এর পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বৃষ্টির কাজের জায়গা থেকে তার ম্যাকবুক, আইপ্যাড ও খাবারের বাক্স উদ্ধার করে পুলিশ।

২২ এপ্রিল

তদন্তকারীরা হিশামের মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। আদালতের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী হিশাম আগে রাগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যায় ভুগতেন এবং পরিবারের সঙ্গে সহিংস আচরণ করেছেন।

২৩ এপ্রিল

দুই শিক্ষার্থীর নিখোঁজের অবস্থা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করা হয়। এক ময়লা ফেলার স্থানে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ রক্তমাখা কালো ফ্লোর ম্যাট, বৃষ্টির ফোন কভার, লিমনের মানিব্যাগ, চশমা ও রক্তমাখা পোশাক উদ্ধার করে। জিজ্ঞাসাবাদে হিশাম বারবার ভিন্ন বক্তব্য দেন। প্রথমে তিনি ক্লিয়ারওয়াটারে যাওয়ার কথা অস্বীকার করেন, পরে বলেন মাছ ধরার জায়গা খুঁজতে গিয়েছিলেন, আরও পরে দাবি করেন লিমন ও বৃষ্টিকে সেখানে নামিয়ে দিতে গিয়েছিলেন।

২৪ এপ্রিল

হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড সেতুতে তল্লাশি চালিয়ে একটি কালো আবর্জনার ব্যাগ খুঁজে পান গোয়েন্দারা। কৌঁসুলিরা বলছেন, ব্যাগটি হিশামের বিছানার নিচে পাওয়া ব্যাগগুলোর মতোই। ব্যাগের ভেতর থেকে এক পুরুষের দেহাবশেষ উদ্ধার হয়, যা পরে লিমনের বলে শনাক্ত করা হয়।

২৫ এপ্রিল

সকালে হিশামকে প্রথমবার আদালতে তোলা হয়। হত্যার অভিযোগ ছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে মৃতদেহ সরানো, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা, অবৈধভাবে আটকে রাখা ও শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগ আনা হয়।

২৬ এপ্রিল

ফ্রাঙ্কল্যান্ড সেতুর কাছে মানবদেহের আরও অংশ উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, সেই অংশ বৃষ্টির হতে পারে।

২৭ এপ্রিল

ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমায়ার জানান, এ হত্যাকাণ্ডকে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে চলমান ফৌজদারি তদন্তের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র ড্রিউ পুসাতেরি বলেন, ‘এটি একটি ভয়াবহ অপরাধ। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সহায়তা করব।’

২৮ এপ্রিল

অনুষ্ঠিত শুনানিতে বিচারক লোগান মারফি অভিযুক্তকে জামিন ছাড়া কারাগারে রাখার পাশাপাশি সাক্ষী বা নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না করার নির্দেশ দেন। তবে ওই শুনানিতে হিশাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

মন্তব্য করুন