প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ১১:৪৩ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
দেশজুড়ে শুরু হওয়া ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের জেরে পাঁচ জেলায় বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সংস্থাটির তথ্য বলছে, ইতিমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জেও নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলমান বৃষ্টি আরও পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া বুধবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, “মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। ইতিমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির জন্যই এ অবস্থা।”
এর আগে মঙ্গলবার আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়। সে অনুযায়ী গতকাল রাত থেকেই বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। রাজধানীতেও আজ সকাল থেকে ঝরছে বৃষ্টি। আবহাওয়া দপ্তর সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় কিশোরগঞ্জের নিকলীতে সর্বোচ্চ ১৬১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ভোলায় ১৫১ মিলিমিটার ও ফেনীতে ১৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।
আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক প্রথম আলোকে বলেন, “এ বৃষ্টি যে কোনো এলাকায় একটানা হবে তা নয়। থেমে থেমে বিভিন্ন এলাকায় হতে পারে। বৃষ্টি চলতে পারে আগামী ৪ মে পর্যন্ত।”
এদিকে চার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র। নদীগুলো হলো ভুগাই কংস, মনু, সোমেশ্বরী ও মগরা। এগুলোর মধ্যে মনু বাদে বাকি তিনটি নেত্রকোনার ওপর দিয়ে প্রবাহিত। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও এক থেকে দেড় মিটার পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানান পার্থ প্রতীম বড়ুয়া। তিনি বলেন, এসব নদী আকারে ছোট হওয়ায় ভারী বৃষ্টিতেই পানি দ্রুত বেড়ে যায়। তবে বৃষ্টির তীব্রতা কমে গেলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে পারে বলেও আশ্বাস দেন এই প্রকৌশলী।
মন্তব্য করুন