স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ১২:১৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

প্যারিসে নয় গোলের রুদ্ধশ্বাস রাত, সেমিফাইনালে পিএসজির ৫-৪ জয়

ছবি: সংগৃহীত

চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে বায়ার্ন মিউনিখকে ৫-৪ গোলে হারিয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সঁ জারমাঁ। পার্ক দে প্রিন্সেসে গতকাল রাতের এই ম্যাচ ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সেমিফাইনালে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েছে। পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা, প্রতি-আক্রমণের তীব্রতা আর ক্লান্তিহীন দৌড়—সব মিলিয়ে ফুটবল কেন ‘দ্য বিউটিফুল গেম’ তারই এক জ্বলজ্বলে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল এই লড়াই।

ম্যাচ শেষে পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে বলেন, ‘জয়টা আমাদের প্রাপ্য ছিল, ড্র–ও প্রাপ্য ছিল এবং হারও। অসাধারণ এক ম্যাচ। সন্দেহাতীতভাবে, কোচ হিসেবে আমার ক্যারিয়ারে এটাই সেরা ম্যাচ।’

ইউরোপিয়ান কাপ আমল ধরলে ১৯৬০ সালের ৫ মে রেঞ্জার্সের বিপক্ষে ৬-৩ গোলে জেতা আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের ম্যাচটির পর সেমিফাইনালে এটাই সর্বোচ্চ গোলের রাত। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগ যুগে সেমিফাইনাল মঞ্চে এক ম্যাচে নয় গোল আগে কখনো দেখা যায়নি।

ম্যাচের রোমাঞ্চ শুধু গোলেই সীমাবদ্ধ নয়। ৫-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর টানা দুই গোল শোধ করে বায়ার্ন। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ আর অবিশ্রান্ত ছুটোছুটি মিলে রাতটি পরিণত হয় এক ‘ইউরোপিয়ান ক্ল্যাসিকে’।

আগামী বুধবার মিউনিখে ফিরতি লেগের আগে ১ গোলের লিড পেয়েছে এনরিকের শিষ্যরা। তবে ক্লান্তির এই রাতে দোষ খোঁজা নয় বরং সবাইকে অভিনন্দন জানানো উচিত বলেই মনে করেন তিনি। এনরিকে মজা করে আরও বলেন, ‘খুব ক্লান্ত লাগছে। আমি তো এক কিলোমিটারও দৌড়াইনি। তাই খেলোয়াড়দের কেমন লাগছে, বলতে পারব না।’

অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞায় ডাগআউটে ছিলেন না বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি। কানে ইয়ারপিস লাগিয়ে মিডিয়া বক্স থেকে খেলা দেখতে হয় তাঁকে। শেষ বাঁশির পর প্রাইম ভিডিওকে কোম্পানি বলেন, ‘কোনো মজা নেই। ভবিষ্যতে এমন কিছু না ঘটলে ভালো লাগবে।’ তবে শিষ্যদের মানসিকতায় তৃপ্তিও প্রকাশ করে বলেন, ‘৮০ মিটার দূরে বসে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে খেলোয়াড়দের লড়াইয়ে ফেরার ধরনটা ভালো লেগেছে।’

তিন হলুদ কার্ডের দায়ে কাটানো নিষেধাজ্ঞা শেষে ঘরের মাঠে ফিরতি লেগে ডাগআউটে ফিরবেন কোম্পানি। সমর্থকদের উদ্দেশে তাঁর আহ্বান, ‘রিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে সমর্থকদের মধ্যে একধরনের আগুন ছিল। আমাদের সেটি তো লাগবেই; বরং তার চেয়েও বেশি কিছু দরকার। সমর্থকদের কাছে আমার চাওয়া এটুকুই। এমন ম্যাচ দেখার জন্য আমিও স্টেডিয়ামে যেতাম, তবে চুপচাপ বসে থাকার জন্য নয়।’

পিএসজি কোচ এনরিকেও জানেন, ফিরতি লেগ কঠিন হবে। তাঁর ভাষ্য, ‘আমি আমার স্টাফদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, এই ম্যাচ জিততে আমাদের কয়টি গোল করতে হবে? তারা জানাল, অন্তত ৩টি। বায়ার্ন মিউনিখ তাদের নিজেদের মাঠে আরও শক্তিশালী। তবে আমরা একই মানসিকতা নিয়ে লড়াই করব।’

মন্তব্য করুন