নাজমুল হুদা

প্রকাশিত: ৯ ঘন্টা আগে, ০৯:৫৭ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

এমপিদের জন্য সরকারি গাড়ির দাবি: সংসদীয় সুবিধা ও নৈতিকতা নিয়ে বিতর্ক

ছবি: সংগৃহীত

সংসদ সদস্যদের মাসিক যাতায়াত ভাতা হিসেবে ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও তাঁদের জন্য সরকারিভাবে গাড়ির ব্যবস্থা করার দাবি তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তরুণ সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। অধিবেশনে তোলা এই দাবির প্রতি বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের প্রচ্ছন্ন সমর্থন এবং এর বিপরীতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-সহ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের সমালোচনা সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

গত মঙ্গলবার সংসদের অধিবেশনে হাসনাত আবদুল্লাহর এই দাবির পর বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান যেখানে নির্বাচনের আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে তাঁদের কেউ সরকারি প্লট বা শুল্কমুক্ত গাড়ি নেবেন না, সেখানে তাঁর নেতৃত্বাধীন জোটের সদস্য হাসনাতের এমন আবদারে সমালোচকরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তবে এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে দাবি করে বুধবার সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ ব্যাখ্যা দেন যে, তিনি মূলত ডিসি বা ইউএনওদের মতো সরকারি প্রক্রিয়ায় গাড়ি চেয়েছেন, শুল্কমুক্ত সুবিধায় নয়।

সুবিধা ও আইনি বাধ্যবাধকতা

বর্তমান আইন অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য মাসিক ৫৫ হাজার টাকা মূল বেতন ছাড়াও ৭০ হাজার টাকা যাতায়াত ভাতা, ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্বাচনী এলাকা ভাতা এবং ৫ লাখ টাকার স্বেচ্ছাধীন তহবিলসহ নানা সুবিধা পান। এ ছাড়া পাঁচ বছরে একটি শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ থাকলেও বর্তমান সরকারের প্রধান দল বিএনপি এবং জামায়াত তা না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এমতাবস্থায় নতুন করে গাড়ির দাবি তোলার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, “শুল্কমুক্ত গাড়ির বিষয়টি যেহেতু প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, ফলে গাড়ি চাওয়াটা নৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয়। সরকারি কর্মকর্তাদের মতো যদি গাড়ি চাওয়া হয়, তাহলে বলতে হয় নিজেদের সুবিধা বিবেচনায় সংসদ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তার পার্থক্য তাঁরা বুঝতে চাইছেন না।”

উপজেলায় ‘পরিদর্শন কক্ষ’ নিয়ে উদ্বেগ

গাড়ির দাবির পাশাপাশি উপজেলা পরিষদের দোতলায় সংসদ সদস্যদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’ বরাদ্দের সরকারি সিদ্ধান্তও সমালোচনার মুখে পড়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রতিটি উপজেলায় এই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে দুর্বল করবে। ইফতেখারুজ্জামান এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, এটি স্থানীয় সরকারের ভূমিকাকে খর্ব করার শামিল এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের চিন্তা থেকে এমন দাবি আসতে পারে।

সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা ও ভাতার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও নতুন করে যানবাহন ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির এই প্রচেষ্টা রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্বস্তি তৈরি করেছে। একদিকে শুল্কমুক্ত গাড়ি ত্যাগের নৈতিক অবস্থান, অন্যদিকে সরকারি খরচে গাড়ির আবদার—এই দুইয়ের বৈপরীত্য নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যাতায়াত ভাতার অতিরিক্ত সরকারি গাড়ির সুবিধা দেওয়া হলে তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে।

মন্তব্য করুন