প্রকাশিত: ৭ ঘন্টা আগে, ১১:১৬ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে এক বড় ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সংলাপের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই উচ্চপর্যায়ের সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এই সফরের ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করে বলছি, আলোচনার উদ্দেশ্যে বিশেষ দূত উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার আগামীকাল সকালে আবারও পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা দেবেন।' লেভিট আরও যোগ করেন যে, আলোচনা ফলপ্রসূ হলে পরবর্তী ধাপে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও পাকিস্তান সফরে যেতে প্রস্তুত রয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ‘ইরানিরা আলোচনা করতে চায়। আলোচনা সফল হলে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তান সফরের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।'
এদিকে, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ইসলামাবাদে শুক্রবার রাতেই পৌঁছেছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরগচির নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানি প্রতিনিধিরা সফরের শুরুতে পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন। এই বৈঠকগুলোতে মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা বজায় রেখেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁদের সরাসরি বৈঠকের কোনো পূর্বপরিকল্পনা নেই। তিনি জানান, ইরানের বক্তব্যগুলো পাকিস্তানের মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে এবং আরগচি কেবল পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের সঙ্গেই আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি বৈঠক না হলেও একই সময়ে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের প্রতিনিধিদের ইসলামাবাদে অবস্থান করাটা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পাকিস্তান এখানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বড় ভূমিকা পালন করছে। গত ১১ এপ্রিলের ব্যর্থ সংলাপের পর এই নতুন উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কোনো ‘ব্রেকথ্রু’ তৈরি করতে পারে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্বমহল।
মন্তব্য করুন