প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৫:২৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ইসরাইলি বন্দিশিবিরগুলোতে ফিলিস্তিনিদের ওপর অবর্ণনীয় শারীরিক নির্যাতনের খবর ছাপিয়ে এবার সামনে এসেছে প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করে পরিকল্পিত যৌন নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে সংগৃহীত বিভিন্ন সাক্ষ্য ও তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, নেগেভ মরুভূমির কুখ্যাত ‘সদে তেইমান’সহ বিভিন্ন কারাগার এখন ফিলিস্তিনিদের মনস্তাত্ত্বিক ও ব্যক্তিগত সত্ত্বা ধ্বংস করার এক বিভীষিকাময় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
ইসরাইলের কঠোর সামরিক সেন্সরশিপ উপেক্ষা করে এই অমানবিক কর্মকাণ্ডের তথ্য সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। গত ১৮ এপ্রিল ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ইসরাইলের সাবেক সেনা সদস্য শাহেল বেন-এফ্রাইম এই পৈশাচিক নির্যাতনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সদে তেইমান কেন্দ্রের দুইজন প্রহরীর সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর তিনি জানান, সেখানে বন্দিদের ওপর যৌন নির্যাতনে কুকুরের ব্যবহার একটি ‘ওপেন সিক্রেট’। প্রহরীদের একজন স্বীকার করেছেন, তিনি সেখানে এমন সব দৃশ্য দেখেছেন যা ভাষায় বর্ণনা করা অসম্ভব।
বি’সেলেম এবং ইউরো-মেডিটেরেনিয়ান হিউম্যান রাইটস মনিটরসহ একাধিক মানবাধিকার সংস্থার তদন্তে উঠে এসেছে যে, এটি কেবল সাধারণ জিজ্ঞাসাবাদ নয়, বরং ফিলিস্তিনিদের মর্যাদা গুঁড়িয়ে দেওয়ার একটি সুসংগঠিত ‘নির্যাতন নীতি’।
বেঁচে ফেরা বন্দিদের বীভৎস বর্ণনা কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া ৩৫ বছর বয়সী ‘এ.এ.’ (ছদ্মনাম) জানান, তাকে একটি নির্জন করিডোরে নগ্ন করে প্রায় তিন মিনিট ধরে প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে পাশবিক নির্যাতন করা হয়। এ সময় ইসরাইলি সৈন্যরা ব্যথায় কুঁকড়ে যাওয়া বন্দির মুখে পেপার স্প্রে ছিটিয়ে দিয়ে উল্লাস করছিল। ৪৩ বছর বয়সী অন্য এক বন্দি ওয়াজদি জানান, তাকে লোহার বিছানায় বেঁধে সৈন্য ও কুকুর উভয়ই ধর্ষণ করেছে এবং সেই দৃশ্য ভিডিও করা হয়েছে। আরও ভয়াবহ তথ্যে জানা যায়, কুকুরের কামড়ে যৌনাঙ্গ বিচ্ছিন্ন হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে এক বন্দির মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে।
রাজনৈতিক ও আইনি সুরক্ষা আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ভয়াবহতাকে ইসরাইলের রাজনৈতিক ও আইনি কাঠামো সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচ সেনার বিরুদ্ধে মামলা হলেও পরে তা তুলে নেওয়া হয়। এমনকি ইসরাইলি নেসেট সদস্য হানোচ মিলউইডস্কি প্রকাশ্যেই ঘোষণা করেছেন যে, ‘বন্দিদের মলদ্বারে কোনো বস্তু ঢুকিয়ে দেওয়া বা যেকোনো ধরনের নির্যাতন করা বৈধ।’ জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেস্কা আলবানিজ এই অবস্থাকে ফিলিস্তিনিদের মর্যাদা ধ্বংস করার একটি ‘কাঠামোগত অংশ’ বলে অভিহিত করেছেন।
বিশ্ববিবেকের নীরবতা এই দুঃসহ অপরাধের মুখে পশ্চিমা বিশ্বের, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট নামমাত্র উদ্বেগ প্রকাশ করলেও ইসরাইলকে সামরিক ও কূটনৈতিক সুরক্ষা দেওয়া বন্ধ করেনি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক আইনের এই প্রয়োগহীনতা এবং বিশ্ববিবেকের নীরবতাই সদে তেইমানের মতো অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কুকুর লেলিয়ে এই মধ্যযুগীয় বর্বরতা চালিয়ে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করে দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন