প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ০৪:৩২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জামায়াত কখনোই গঠনমূলক বা সুস্থ রাজনৈতিক চিন্তা করতে পারে না। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথ সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত জামায়াত আমিরের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে এক পত্রিকায় একটি সংবাদ দেখলাম, যা আমাকে অত্যন্ত আহত করেছে। জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেছেন— বিএনপি ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে, তিনি বা তার দল কখনোই সুস্থভাবে চিন্তা করেন না।’
বিএনপি মহাসচিব সদ্য সমাপ্ত সাধারণ নির্বাচনের স্বচ্ছতা তুলে ধরে দাবি করেন, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যম একবাক্যে এই নির্বাচনকে ইতিহাসের অন্যতম সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। জনপ্রিয়তার ভিত্তিতেই বিএনপি ২১৩টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াত আমিরের এই ভিত্তিহীন বক্তব্য কেবল প্রত্যাখানযোগ্য নয়, বরং এটি চরম নিন্দনীয় ও ক্ষোভের উদ্রেককারী।
জামায়াতের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার অপপ্রয়াস হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘আজকে ওই শক্তির (জামায়াতে ইসলামী) পক্ষ থেকেই একটা ধূম্রজাল ও বিভেদ সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার যে সুযোগ আমরা পেয়েছি, সেই প্রচেষ্টাকে নষ্ট করে দিয়ে তারা (জামায়াত) দেশে আবার একটি ফ্যাসিস্ট বা স্বৈরাচারী শাসনের পাঁয়তারা করছে কি না— সেটা দেশবাসীকে চিন্তা করতে হবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, অতীতের কারণে জাতি তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আগামীতে তাদের রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করার লক্ষ্যেই কাজ করবে বিএনপি।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে মির্জা ফখরুল আগামী ১ মে মহান মে দিবস উপলক্ষে শ্রমিক সমাবেশের ডাক দেন। নয়াপল্টনে দুপুর ২টায় অনুষ্ঠেয় এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ সময় তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার এবং কার্টুনের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরির প্রচেষ্টার নিন্দা জানান। সংবাদ ব্রিফিংয়ে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের মিত্র দুই দলের মধ্যে আদর্শিক ও রাজনৈতিক দূরত্ব আরও স্পষ্ট হলো।
মন্তব্য করুন