প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৭:৫৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার কুতুব উদ্দিন সহ দুই পুলিশ কর্মকর্তা এবং এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অপহরণ, প্রাণনাশের হুমকি এবং জোরপূর্বক ১৯ লক্ষ টাকার চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এ এই মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী চন্দন কুমার সূত্রধর।
মামলার প্রধান আসামিরা হলেন, কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই (সেকেন্ড অফিসার) কুতুব উদ্দিন, এএসআই নন্দন কুমার এবং হোটেল ডায়নার স্বত্বাধিকারী হাজী এনায়েত আলী সুমন। এ ছাড়া আরও ২-৩ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী চন্দন কুমার সূত্রধর (পিতা: লক্ষণ সূত্রধর) কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানা এলাকার একজন স্থায়ী বাসিন্দা ও পেশায় ব্যবসায়ী।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১ নং আসামি এনায়েত আলী সুমনের সাথে ব্যবসায়ী চন্দনের পূর্ব পরিচয় ও লেনদেন ছিল। গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৯:২০ মিনিটে নগরীর ছাতিপট্টি এলাকার একটি জুয়েলারি দোকানের সামনে থেকে চন্দন কুমার সূত্রধরকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে কোতোয়ালি মডেল থানায় নিয়ে এসআই কুতুব উদ্দিনের কক্ষে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাকে মাদক মামলায় ফাঁসানো এবং ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে ১৯ লক্ষ টাকার একটি ব্যাংক চেক, ২০০ টাকার স্ট্যাম্প এবং সাদা কাগজে সই করতে বাধ্য করা হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নং আসামি এনায়েত আলী সুমনের সাথে বাদীর পূর্ব ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। সুমন বাদীর কাছ থেকে ২১ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন, যা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করেই এই বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, সুমন পুলিশ কর্মকর্তাদের ব্যবহার করে উল্টো বাদীকে অপহরণ ও ব্ল্যাকমেইল করে বড় অঙ্কের এই অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন।
সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মুমিনুল হক বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে মামলাটি আমলে নিয়েছেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডি (CID)-কে নির্দেশ প্রদান করেছেন। মামলার সংশ্লিষ্ট ধারা: দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১০৯, ৩৮৬ (জোরপূর্বক অর্থ আদায়), ৪০৬, ৪২০ এবং ৫০৬(২) ধারায় এই নালিশি মামলাটি রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি থানায় আটকে রেখে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সিআইডি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।
মন্তব্য করুন