প্রকাশিত: ৯ মার্চ, ২০২৬, ১০:২৮ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নিয়মিত মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার নিজের নামে পাঁচ কোটির বেশি এবং তার স্ত্রী ও কন্যার নামে প্রায় দশ কোটির অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
রোববার (৮ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম।
দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামশুল হক চৌধুরীর নামে মোট ৬ কোটি ৮৮ লাখ ৭ হাজার ৯৫৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য ও বৈধ আয়ের পরিমাণ ৪ কোটি ৯০ লাখ ১৩ হাজার ৯৫৬ টাকা। পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় বাদ দিলে তার প্রকৃত সঞ্চয় হওয়ার কথা ছিল ১ কোটি ৭৯ লাখ ৪৯ হাজার ৩৬২ টাকা।
কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তার আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীনভাবে ৫ কোটি ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৫৯৫ টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে, যার কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসৎ উদ্দেশ্যে এই বিপুল সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রেখেছেন তিনি। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪–এর ২৭(১) ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই অনুসন্ধানে সামশুল হক চৌধুরীর পরিবারের সদস্যদের নামেও বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তার স্ত্রী কামরুন নাহার চৌধুরীর নামে ৭ কোটি ২১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৬ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। অথচ তার বৈধ আয় ও সঞ্চয় অনুযায়ী সম্পদের পরিমাণ হওয়ার কথা ছিল মাত্র ৪৫ লাখ ৭৮ হাজার ৫৮৩ টাকা। ফলে তার নামে ৬ কোটি ৭৫ লাখ ৭৬ হাজার ২০৩ টাকার অবৈধ সম্পদ থাকার প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
অন্যদিকে তাদের কন্যা তাকলিমা নাছরিন চৌধুরীর নামে ৩ কোটি ১ লাখ ৮১ হাজার ৯৬৯ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮৮ হাজার ৭২৩ টাকার সম্পদের উৎস অসংগতিপূর্ণ বা অবৈধ বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে সংস্থাটি।
দুর্নীতি দমন কমিশন জানিয়েছে, এসব তথ্যের ভিত্তিতেই সামশুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন