প্রকাশিত: ৭ ঘন্টা আগে, ১০:১৩ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পারমাণবিক আলোচনা বর্তমানে এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। দুই পক্ষই একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী হলেও পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিতের সময়সীমা এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ২১ ঘণ্টার ঝটিকা সফরের পর আলোচনার নতুন তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরান আগামী ২০ বছরের জন্য তাদের সমস্ত পারমাণবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থগিত রাখুক। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কোনো ‘স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা’ নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদী স্থগিতাদেশ। এর মাধ্যমে ইরান আন্তর্জাতিক চুক্তিতে পাওয়া পারমাণবিক জ্বালানি তৈরির অধিকার বজায় রাখতে পারবে, তবে তা কার্যকর করতে পারবে না অন্তত দুই দশক।
আলোচনার অন্যতম প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের কাছে থাকা ৯৭০ পাউন্ড উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, এই জ্বালানি ইরানের ভূখণ্ড থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রয়োজনে স্থল সেনা পাঠিয়ে এই ইউরেনিয়াম উদ্ধার করার চিন্তাও করেছিলেন বলে জানা গেছে। তবে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, জ্বালানি দেশের বাইরে যাবে না; বড়জোর তারা জ্বালানিটি পাতলা (Dilute) করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে যাতে তা অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা না যায়।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট স্পষ্ট করেছেন যে, ট্রাম্পের কঠোর নৌ-অবরোধের কারণে ইরান বেশ চাপে রয়েছে। ইরানের তেলের জাহাজগুলো বর্তমানে গতিপথ বদলে আমেরিকার নিয়ন্ত্রিত জলসীমার দিকে যেতে বাধ্য হচ্ছে, যা তেহরানকে আলোচনায় নমনীয় হতে বাধ্য করবে বলে ওয়াশিংটন মনে করছে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামার সময়ে হওয়া পারমাণবিক চুক্তির কট্টর সমালোচক ট্রাম্প ২০১৮ সালে তা থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। তবে তৎকালীন আলোচনা দলের সদস্য রব ম্যালি মনে করেন, ইরান যদি কয়েক বছরের জন্যও কার্যক্রম স্থগিত রাখে, তবে তা ২০১৫ সালের চুক্তির চেয়ে বেশি কার্যকর হবে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সোমবার সন্ধ্যায় জানিয়েছেন, আলোচনা কিছুটা এগোলেও তেহরান এখনো কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নমনীয় হয়নি। পরবর্তী পদক্ষেপের বল এখন ইরানের কোর্টে।
পারমাণবিক শর্তের পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। ইরান দাবি করছে, কাতারের ব্যাংকে আটকে থাকা তাদের ৬০০ কোটি ডলার অবিলম্বে ছেড়ে দিতে হবে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের নিষেধাজ্ঞার কারণেই এই বিশাল অংকের অর্থ আটকে আছে।
ইরান তাদের জ্বালানি অধিকার রক্ষা এবং অর্থ ছাড়ের বিষয়ে অটল থাকলে এবং যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের স্থগিতাদেশ ও ইউরেনিয়াম সরানোর দাবিতে অনড় থাকলে এই আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান আন্তর্জাতিক মহল। তবে দুই পক্ষই স্বীকার করেছে যে, আলোচনার টেবিল এখনো বন্ধ হয়ে যায়নি।
মন্তব্য করুন