শনিবার   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৫ ১৪৩২   ১৯ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২২

সিলেটের ১৯ আসনে ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ৪ বিষয়

তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সিলেট বিভাগের ১৯টি সংসদীয় আসনে ভোটের সমীকরণ এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট হয়ে ওঠেনি। মাঠে প্রচার জোরদার হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে অস্বস্তি বিরাজ করছে। বিএনপি অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর চাপে তটস্থ। জামায়াতে ইসলামী নিজেদের তুলনামূলক শক্তিশালী প্রার্থীদের সরিয়ে জোটের শরিকদের প্রার্থী করায় সেসব আসনের প্রার্থীদের বিজয় নিয়ে রয়েছে টেনশন। দুটি প্রধান দলই ‘এক বক্স’ নীতি বাস্তবায়নে মরিয়া হলেও এখনো সম্ভাবনার আলো ছুঁতে পারেনি কোনো জোটই। ফলে ভোটযুদ্ধে থাকা দুপক্ষেই নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ততই অস্বস্তি বাড়ছে। 

 

সিলেট বিভাগে ভোটের সমীকরণ এখনো মেলাতে পারেনি বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন দুটি জোট। ভোটার উপস্থিতি, বিএনপির ঘর সামলানোর সক্ষমতা এবং জামায়াতের জোট ব্যবস্থাপনা, বাড়ি-বাড়ি নারী কর্মীদের অব্যাহত প্রচারণা—এই চারটি বিষয়ই ফল নির্ধারণে মুখ্য হয়ে উঠতে পারে। ১. ভোটার উপস্থিতি সাধারণ ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পক্ষে। কে জিতবে সেটা বড় কথা নয়, শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ—এটাই তাদের প্রত্যাশা। ভোটারদের এমন মনোভাবই ভোটের সমীকরণকে অনেকটা অনিশ্চিত করে দিচ্ছে। কারণ ভোটার উপস্থিতি বেশি বা কমের মধ্যেও রয়েছে ভোটে জয়-পরাজয়ের অনেক হিসাব-নিকাশ। সিলেটের প্রেক্ষাপটে এমন পরিস্থিতির কথা অনেকটাই হয়তো আগাম আঁচ করতে পেরেছিলেন দুটি দলের হাইকমান্ড।

 

২. বিএনপির অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও বিদ্রোহী প্রার্থীর চাপ বিএনপির জন্য বড় সমস্যা দলের ভেতরের বিভাজন। সিলেট-৩, সিলেট-৪, সিলেট-৫ ও সিলেট-৬ আসনে মনোনয়ন ঘিরে অসন্তোষ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। কোথাও বিদ্রোহী প্রার্থী, কোথাও নীরব বিরোধিতা দলীয় প্রার্থীর ভোট কমাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় নেতারা। সিলেট-৩ আসনে প্রবাস ফেরত প্রার্থীকে ঘিরে ঐক্যের কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। সিলেট-৫ আসন জোটের শরিককে ছেড়ে দেওয়ায় বিএনপির তৃণমূল ক্ষুব্ধ।

 

৩. জামায়াতের জোট ব্যবস্থাপনা ও প্রচারণা জামায়াতে ইসলামীর অবস্থানও স্বস্তিদায়ক নয়। অতীতে সিলেট বিভাগে বড় সাফল্য না পেলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সাংগঠনিকভাবে শক্তি বাড়িয়েছে দলটি। তবে জোটের বাস্তবতায় অনেক সম্ভাবনাময় আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছে না জামায়াত। ১৯টি আসনের মধ্যে ১০টি জোটের শরিকদের ছেড়ে দিতে হয়েছে। এতে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ রয়েছে।

 

৪. নারী কর্মীদের বাড়ি-বাড়ি প্রচারণা বাড়ি-বাড়ি নারী কর্মীদের অব্যাহত প্রচারণা উভয় দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সিলেটের মতো এলাকায় যেখানে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ ও প্রভাব বেশি, সেখানে নারী কর্মীদের মাধ্যমে সরাসরি ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর কৌশল বেশ কার্যকর হচ্ছে। জামায়াত এই ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকলেও বিএনপিও এখন এই দিকে জোর দিচ্ছে।

 

সিলেট বিভাগে মোট ভোটার সিলেট বিভাগে মোট ভোটার প্রায় ২৮ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ নারী এবং নতুন ও তরুণ ভোটার। দুদলই তরুণ ভোটারদের কাছে টানতে দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি। রাজনৈতিক বাস্তবতা রাজনৈতিক বাস্তবতায় সিলেট বিভাগের বেশির ভাগ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপির ধানের শীষ ও জামায়াতের দাঁড়িপাল্লার মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে এই সরল সমীকরণের আড়ালে জটিল বাস্তবতা রয়েছে। আওয়ামী লীগপন্থি ভোটারদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশ্যে মাঠে না থাকলেও এই ভোট কোনদিকে যাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

 

বিশেষ করে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আসনগুলোতে এই ভোটই শেষ পর্যন্ত জয়-পরাজয়ের ফারাক গড়ে দিতে পারে। নির্বাচন যত এগোচ্ছে, টেনশনও তত বাড়ছে। বিএনপি ও জামায়াত দুই পক্ষই বুঝতে পারছে, সামান্য বিচ্যুতিই সিলেটের ১৯টি আসনের ফল পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়লে কার লাভ, কার ক্ষতি—এ নিয়েও চলছে নানা সমীকরণ।

এই বিভাগের আরো খবর