শনিবার   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৪ ১৪৩২   ১৯ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৪

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে যা আছে......

তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে বিএনপি। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ইশতেহার ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে ‘জুলাই সনদ অবশ্যই বাস্তবায়ন করবে।’ অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আজ এক নতুন ইতিহাস, আজকে নতুন নেতৃত্ব। সেই নেতা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সমগ্র জাতি আজ উন্মুখ হয়ে আছে। নতুন নেতৃত্ব জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন বার্তা নিয়ে আসবেন। তার নেতৃত্বে নতুন এক সূর্যোদয় হবে।

 

ইশতেহারে বিএনপি জনগণের সঙ্গে একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে। প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলো নিম্নরূপ:

 

বিএনপির প্রধান নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি 

 

১. ফ্যামিলি কার্ড প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এই সুবিধা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।

 

২. কৃষক কার্ড ও কৃষি সুরক্ষা কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’ চালু, ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষিবিমা ও রাষ্ট্রীয় বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। মৎস্যচাষি, খামারি ও ক্ষুদ্র কৃষি ব্যবসায়ীরাও এ সুবিধা পাবেন।

 

৩. দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, জেলা-মহানগরে মানসম্মত চিকিৎসা, মা-শিশু স্বাস্থ্যসেবা ও রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

 

৪. কর্মমুখী ও আনন্দময় শিক্ষা দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন, প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা ও ‘মিড-ডে মিল’ চালু করা হবে।

 

৫. তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিতকরণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ-উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্সে যুক্তকরণ এবং মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।

 

৬. ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যমে গড়ে তোলা জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ করা হবে।

 

৭. পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা ১০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খনন ও পুনঃখনন, ৫ বছরে ১৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।

 

৮. ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

 

৯. ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম (পেপাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ করা হবে।

 

ইশতেহারের মূল বার্তা বিএনপি বলছে, এই ইশতেহার কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, এটি জনগণের সঙ্গে একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা। বিএনপি প্রতিশোধ নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই বিএনপির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। লুটপাট নয়, উৎপাদন; ভয় নয়, অধিকার; বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা—এই নীতিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।

 

জনগণের রায়ে দায়িত্ব পেলে বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যেখানে ভোটের মর্যাদা থাকবে। সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অবসান হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না। প্রত্যেক নাগরিক গর্ব করে বলতে পারবেন—সবার আগে বাংলাদেশ। ইশতেহার ঘোষণার পর বিএনপি নেতৃত্ব বলছেন, এটি জনগণের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তি। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে সুশাসন ও সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনা হবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর