বৃহস্পতিবার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৩ ১৪৩২   ১৭ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১৩

আদি পাখিরা যেমন ছিল: ১৫ কোটি বছর আগেই আধুনিক পাখির মতো মুখের গঠন

প্রকাশিত: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

আকাশে ওড়ার জন্য প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয়। আর তাই দ্রুত খাবার সংগ্রহের পাশাপাশি সেগুলো হজমও করতে হয় পাখিদের। নতুন এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, আধুনিক পাখির মুখের অনেক বৈশিষ্ট্য আজ থেকে ১৫ কোটি বছর আগেই আর্কিওপ্টেরিক্স প্রজাতির ডাইনোসরের মধ্যে বিদ্যমান ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর ফিল্ড মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আর্কিওপ্টেরিক্স ডাইনোসরের জীবাশ্মের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়। চুনাপাথরে ঢাকা এই জীবাশ্ম পরিষ্কার করতে এক বছরের বেশি সময় লেগেছে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

 

গবেষক জিংমাই ও’কনর জানান, গবেষণায় আর্কিওপ্টেরিক্সের মুখের এমন কিছু কাঠামোর সন্ধান পাওয়া গেছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। জীবাশ্মটির তালুতে কতগুলো ক্ষুদ্র মাংসল পাওয়া গেছে, যাকে ওরাল প্যাপিলি বলা হয়। আধুনিক পাখিদের মুখেও এমন সারি সারি ক্ষুদ্র মাংসল দেখা যায়। এগুলো দাঁত না থাকলেও খাবারকে মুখগহ্বরের পেছনের দিকে ঠেলে দিতে ও শ্বাসনালিতে প্রবেশে বাধা দেয়। জীবাশ্মের ইতিহাসে এই প্রথম আর্কিওপ্টেরিক্সের মধ্যে এমন বৈশিষ্ট্যের সন্ধান মিলল।

 

মুখের তালুর পাশাপাশি গবেষকেরা জিহ্বার পাশে হাড়ের একটি ক্ষুদ্র অংশও খুঁজে পেয়েছেন। মানুষের জিহ্বায় হাড় না থাকলেও অধিকাংশ পাখির এটি থাকে। এই হাড় জিহ্বার পেশিকে মজবুত ভিত্তি দেয়, ফলে পাখি জিহ্বা অনেক বেশি নড়াচড়া করতে পারে এবং খাবার নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। এ ছাড়া সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে পাখির ঠোঁটের ডগায় স্নায়ু চলাচলের সূক্ষ্ম নালিও পাওয়া গেছে। এটি আধুনিক পাখিদের মতো কাজ করত, যা দিয়ে তারা ঠোঁটের স্পর্শেই খাবারের গুণাগুণ বুঝতে পারত।

 

জিহ্বার হাড়, সংবেদনশীল ঠোঁট ও প্যাপিলির সব বৈশিষ্ট্য ইঙ্গিত দেয় আর্কিওপ্টেরিক্স অনেক আগেই দক্ষভাবে খাওয়ার ক্ষমতা অর্জন করেছিল। ওড়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল ক্যালরি দ্রুত সংগ্রহ করার লক্ষ্যেই ডাইনোসর থেকে পাখিতে রূপান্তরের এই পর্যায়ে তাদের মুখের গঠন এভাবে বদলে গিয়েছিল। এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, আধুনিক পাখির অনেক খাদ্য গ্রহণের বৈশিষ্ট্য আর্কিওপ্টেরিক্সের সময় থেকেই শুরু হয়েছিল। গবেষণাটি পাখির বিবর্তনের ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় যোগ করেছে।

এই বিভাগের আরো খবর