বৃহস্পতিবার   ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ৩০ ১৪৩২   ২৪ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৭

বাংলাদেশের নির্বাচন: বিশ্বমিডিয়ায় উৎসবমুখর পরীক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রায় দেড় বছর পর আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে রাষ্ট্র সংস্কারের কিছু মৌলিক প্রশ্নে গণভোটও চলছে। এই নির্বাচনের খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

 

আল জাজিরা: গণতন্ত্রে ফেরার বড় পরীক্ষা কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা ‘লাইভ নিউজ’-এ বলছে, প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটার ভোট দিতে যাচ্ছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের নেতা শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে গণতন্ত্রে ফেরার এটি একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরাসরি লড়াই হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মধ্যে। এই জোটে রয়েছে ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি), যা অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা তরুণ কর্মীদের দ্বারা গঠিত।

 

দুর্নীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন—এসব বিষয় ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলছে।

 

বিবিসি: দুই প্রধান নেত্রী ছাড়া প্রথম নির্বাচন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ‘লাইভ নিউজ’-এ সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরুর খবর প্রকাশ করেছে। বিবিসির লাইভে বলা হয়েছে, এটি শুধু ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর প্রথম নির্বাচনই নয়, বরং কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবার বাংলাদেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব—শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া—কেউ-ই নির্বাচনী মাঠে নেই। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় ইসলামপন্থি দল প্রথমবারের মতো বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ভোটাররা সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ নামে সংস্কারপ্যাকেজ নিয়েও গণভোটে অংশ নিচ্ছেন। প্রবাসীদের পোস্টাল ভোটও এবার গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

রয়টার্স: জেন-জি ভোটারদের প্রত্যাশা—চাকরি, সুশাসন ও স্বাধীনতা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাকরি, সুশাসন এবং ভয়ভীতি ছাড়া কথা বলার স্বাধীনতা—এ তিনটি বিষয় বাংলাদেশের জেন-জি প্রজন্মের ভোটারদের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে। এই ভোটকে ২০০৯ সালের পর প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।

 

এএফপি: ব্যাপক ভোটার অংশগ্রহণের প্রত্যাশা এএফপি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন ব্যাপক ভোটার অংশগ্রহণ আশা করছে। ২০ ও ৩০-এর কোঠায় থাকা অনেক তরুণ শেখ হাসিনার শাসনামলে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত ছিলেন।

 

ডয়চে ভেলে: ইসলামপন্থিদের প্রভাব বাড়ছে ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোট করে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো ইসলামপন্থি শক্তিগুলো সবচেয়ে শক্তিশালী নির্বাচনী উপস্থিতি দেখাতে প্রস্তুত।

 

দ্য হিন্দু: অর্ধেকের বেশি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে, অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ৯০ শতাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি নজরদারি থাকবে। ঢাকায় অনেক পুলিশ সদস্য বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবেন।

 

দ্য ডন: সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া তথ্যের বন্যা পাকিস্তানের দ্য ডন জানিয়েছে, ফেসবুকে বানানো উক্তি, বিকৃত ছবি ও বিভ্রান্তিকর ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ছে। এআই দিয়ে তৈরি ভিজ্যুয়ালে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাজানো দৃশ্য দেখানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এসব অপপ্রচার ভোটারদের মতামত প্রভাবিত করতে পারে।

 

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বাংলাদেশের এই নির্বাচনকে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা, তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা ও ইসলামপন্থি শক্তির উত্থানের প্রেক্ষাপটে দেখছে। ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও সুষ্ঠু পরিবেশের প্রত্যাশা প্রকাশ করা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে।

এই বিভাগের আরো খবর