সোমবার   ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ৪ ১৪৩২   ২৮ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৩৩

ত্রয়োদশ সংসদের ৭৯% সদস্য কোটিপতি, অর্ধেকের বেশি ঋণগ্রস্ত: টিআইবি

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

সংগ্রহীত ছবি

সংগ্রহীত ছবি

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৭৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ সদস্য কোটিপতি বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য বিবেচনায় ২৩৬ জন সংসদ সদস্য কোটিপতি এবং ১৩ জন শতকোটিপতি।

 

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনপ্রক্রিয়া ও হলফনামা ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সেখানে সার্বিক পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ত্রয়োদশ সংসদের অর্ধেক সদস্যের দায় বা ঋণ রয়েছে। সদস্যদের মোট দায়ের পরিমাণ ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা, যা গত চার সংসদের মধ্যে সর্বোচ্চ। দলগত হিসাবে বিএনপিতে এই হার ৬২ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামীতে ১৬ শতাংশ।

 

এবারও সংসদে ব্যবসায়ী পেশার প্রতিনিধিত্ব সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৬০ শতাংশ। যদিও দ্বাদশ সংসদের তুলনায় এ হার ৫ শতাংশ কমেছে, তবে নবম সংসদের তুলনায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে পেশায় রাজনীতিবিদের সংখ্যা সর্বনিম্নে নেমেছে।

 

টিআইবির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ৯৯ শতাংশ প্রার্থী আচরণবিধির ৫৮টি বিষয়ের অন্তত একটি লঙ্ঘন করেছেন। অনলাইন ও অফলাইন প্রচারণা ব্যয়ে ব্যাপক সীমালঙ্ঘন হয়েছে। নির্ধারিত সীমার তুলনায় ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১৯ শতাংশ থেকে ৩২৮ শতাংশ পর্যন্ত।

 

সর্বোচ্চ সীমালঙ্ঘনের হার দেখা গেছে বিএনপি প্রার্থীদের ক্ষেত্রে (৩২৭.৫%), এরপর স্বতন্ত্র (৩১৫.২%), জামায়াত (১৫৯.১%), জাতীয় পার্টি (১২৮.৬%) ও এনসিপি (১৯.০%)।

 

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাংশের নিষ্ক্রিয়তা এবং নির্বাচন কমিশনের সীমাবদ্ধতার কারণে সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

 

 

ত্রয়োদশ সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব মাত্র ২.৩৬ শতাংশ, যা ২০০৮ সালের নবম সংসদের অর্ধেক এবং সর্বনিম্ন।

 

তবে সংএবারের সংসদ অপেক্ষাকৃত তরুণ। প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন ২০৯ জন বা ৭০ শতাংশ সদস্য। সম্ভাব্য সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতাও প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। সদস্যদের ৮৪.৮৩ শতাংশ স্নাতক বা তার ঊর্ধ্ব ডিগ্রিধারী; এর মধ্যে ৪৪.৮৩ শতাংশ স্নাতকোত্তর।

 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নির্বাচন সামগ্রিকভাবে গ্রহণযোগ্য মাত্রায় সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হলেও আচরণবিধি প্রতিপালনে ঘাটতি ছিল। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ‘বিজয়ী হতেই হবে’ মানসিকতা, অর্থ ও ধর্মের ব্যবহার, সহিংসতা ও অন্তঃকোন্দল নির্বাচনি পরিবেশকে প্রভাবিত করেছে।

 

টিআইবি বলছে, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সমান প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে আচরণবিধি লঙ্ঘন প্রতিরোধে কমিশনের ওপর আরোপিত ক্ষমতার কার্যকর প্রয়োগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

এই বিভাগের আরো খবর