শুক্রবার   ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৩ ১৪৩২   ১৮ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৩০

ড. ইউনূসের নতুন বার্তা: নাগরিক আসবে না, সেবাই যাবে দোরগোড়ায়

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগ্রহীত 

 

বাংলাদেশের চিরাচরিত ‘ফাইল-পুশিং’ বা আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতার সংস্কৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের বার্তা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিটের (জিআইইউ) একটি বিশেষ প্রতিবেদন গ্রহণকালে তিনি জানান, সরকারি চাকরিতে প্রথাগত গৎবাঁধা প্রশিক্ষণ আর চলবে না; এখন থেকে গুরুত্ব পাবে ‘প্রবলেম সলভিং’ বা সরাসরি সমস্যা সমাধানের দক্ষতা।

 

প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও সেবার মানোন্নয়নে প্রধান উপদেষ্টার দর্শন ছিল অত্যন্ত পরিষ্কার। তিনি মনে করেন, সাধারণ মানুষকে সেবার জন্য দ্বারে দ্বারে না ঘুরে বরং প্রযুক্তির মাধ্যমে সেবাটিই পৌঁছে দিতে হবে তাদের হাতের মুঠোয়। তিনি বলেন: ‘আমাদের লক্ষ্য একটাই, নাগরিককে সরকারের কাছে আসতে হবে না, বরং সরকারের সার্ভিস পৌঁছে যাবে নাগরিকের কাছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সেবাকে এমনভাবে স্বয়ংক্রিয় করতে হবে যাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়।’

 

পুরোনো আমলের জরাজীর্ণ প্রশিক্ষণ পদ্ধতির সমালোচনা করে ড. ইউনূস উল্লেখ করেন, বিশাল অট্টালিকা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে দক্ষ জনবলের ঘাটতি এবং সেকেলে পাঠ্যক্রম প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে। কর্মকর্তাদের কাজে উৎসাহ দিতে তিনি নতুন এক পুরস্কার ও মূল্যায়ন ব্যবস্থার প্রস্তাব করেন, যেখানে ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে থাকবে নির্দিষ্ট ‘ইনসেনটিভ’। এছাড়া প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও গুণগত মানের ভিত্তিতে র‍্যাঙ্কিং করার নির্দেশ দেন তিনি।

 

একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসন গড়ার লক্ষ্যে একটি অভাবনীয় প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এখন থেকে সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে বেসরকারি খাতের কর্মকর্তাদেরও প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ থাকবে। এর ফলে সরকারি-বেসরকারি খাতের মধ্যে পেশাদারিত্বের এক মেলবন্ধন তৈরি হবে।

 

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহায়তায় তৈরি এই প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে প্রথম কোনো ‘লার্নিং বাই ডুইং’ পদ্ধতির মূল্যায়ন।

 

মূল্যায়িত প্রতিষ্ঠান গুলো হলো: বিপিএটিসি, বিসিএস প্রশাসন একাডেমি, বিয়াম ফাউন্ডেশন, নাডা ও এনএপিডি। যার মূল ভীতি হবে আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা ও দেশীয় বাস্তবতার সমন্বয়। গঠিত হবে, অ্যাকাডেমিয়া ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ স্টিয়ারিং কমিটি।

 

প্রতিবেদন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া, সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

এই বিভাগের আরো খবর