বুধবার   ২১ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ৮ ১৪৩২   ০২ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১৯

কৃষক ও শিক্ষকের ছেলের শিক্ষায় সমান সুযোগ চায় রাবি উপাচার্য

পাপিয়া আক্তার, রাবি প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি ২০২৬  

একজন কৃষকের ছেলে ও একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের ছেলের মধ্যে শিক্ষার সুযোগে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. সালেহ হাসান নকিব। তিনি বলেন, সবার জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ এবং একই মানের শিক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

 

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও জুলাই ’২৪ পরবর্তী ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

এসময় উপাচার্য বলেন, একজন কৃষকের ছেলে হয়ে জন্ম নেওয়া যেমন কোনো লজ্জার বিষয় নয়, ঠিক তেমনি একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের ছেলে হয়ে জন্ম নেওয়াও কোনো বাড়তি গৌরবের বিষয় নয়। মানুষের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারিত হয় তার শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে।

 

সেমিনারে তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্যের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের সন্তান রাষ্ট্রের সব সুযোগ-সুবিধা পাবে আর একজন কৃষকের সন্তান বঞ্চিত থাকবে—এমন বৈষম্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ধরনের বৈষম্য সমাজকে পিছিয়ে দেয়।

 

শিক্ষার বর্তমান অবস্থা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে উপাচার্য বলেন, বর্তমানে শিক্ষা একটি বড় ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। পৃথিবীর অন্যতম বড় ব্যবসাগুলোর মধ্যে শিক্ষা এখন গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। শিক্ষার উদ্দেশ্য এখন অনেকাংশে মার্কেটের জন্য দক্ষ জনশক্তি সরবরাহে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অথচ শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো মানুষের চিন্তা করার ক্ষমতা ও সচেতনতা তৈরি করা। এই সচেতনতা তৈরি না হলে শিক্ষার প্রতি আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হয় না।

 

তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্র যদি সত্যিকার অর্থে সমতাভিত্তিক সমাজ গঠন করতে চায়, তাহলে কৃষকের সন্তান ও শিক্ষকের সন্তানের মধ্যে শিক্ষার মান ও সুযোগে কোনো পার্থক্য থাকতে পারে না। সুশিক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।

এই বিভাগের আরো খবর