তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৮:০৭ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

সংঘাত নয়, ভালোবাসার মধ্য দিয়ে সমাজ গড়তে চাই: ঠাকুরগাঁওয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

"সংঘাত নয়, সংঘর্ষ নয়, প্রতিশোধ নয়; আমরা ভালোবাসা এবং ভালোবাসার মধ্য দিয়ে সত্যিকার অর্থে একটা সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে চাই," বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জেলায় এটিই তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা।

রাষ্ট্রপতি বলেন, "গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম ও রক্তপাতের পর দেশ এক নতুন পথচলার সুযোগ পেয়েছে। এখন আমাদের মূল দায়িত্ব হলো, এই গণতন্ত্রকে রক্ষা করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, তবে সংঘাত-সংঘর্ষে না জড়িয়ে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়েই সুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চা করতে হবে।"

অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁওয়ের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন রাষ্ট্রপতি। তিনি জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘মুই জানু তোমরা মোক ভালবাসেন। সুতরাং যতক্ষণ কাঁতা কহিম, তোমরা শুনিবেন। ঠিক না?’ উপস্থিত জনতা সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ বলে উঠলে তিনি আবার জিজ্ঞেস করেন, ‘ক্যাঙ্গাতি আছেন তোমরা বারে? ভালো আছেন তো?’

নিজ এলাকার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মির্জা ফখরুল জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে ঘোষিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণ শেষ হয়েছে এবং আগামীকালই এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। এছাড়া জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন, আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় এবং শিবগঞ্জ বিমানবন্দর পুনরায় চালু করার বিষয়ে সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি। স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়াতে কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ার ওপরও জোর দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি যুবসমাজকে মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর পাশাপাশি শুধু চাকরির ওপর নির্ভর না করে উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানান।

দেশের রাজনীতিতে সহিষ্ণুতা ফেরানোর তাগিদ দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, "গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সহিষ্ণুতা। বিভেদ ভুলে সবাই যেন এক বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিজ নিজ অধিকার নিয়ে বাঁচতে পারি, সেই পরিবেশ আমাদের তৈরি করতে হবে।"

বক্তব্যের শেষ ভাগে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পংক্তি উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক।’ জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র রক্ষায় কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। বক্তব্যের শুরুতে তিনি মঞ্চে উপস্থিত মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অকুতোভয়ে পাশে থাকার জন্য তাঁর সহধর্মিণীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মন্তব্য করুন