শুক্রবার   ০১ জুলাই ২০২২   আষাঢ় ১৬ ১৪২৯   ০১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১১০

পাংশার পদ্মার বুকে রাস্তা তৈরি করে চলছে বালু ও মাটি কাটার মহোৎসব

তরুণ কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২  

পাংশা উপজেলার পাশ দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা নদী, সেই নদীর বুকে হানা দিয়েছে বালু ও মাটি দস্যুরা। তৈরি করেছে প্রায় মাঝ নদী পর্যন্ত রাস্থা। চলছে ড্রাম ট্রাক এবং বাটাহাম্বার সহ ভাড়ী যানবাহন। পদ্মার বুক চিড়ে ভেকু মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে চরের ফসলি জমির মাটি ও বালু কাটা হচ্ছে। এমনি একটি চিত্র চোখে পড়েছে রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চরপাড়া, চড়ঝিকড়ি, শাহামিরপুর, চর আফরা সহ বেরিবাঁধ এলাকা থেকে ভেকু দিয়ে বালি ও মাটি উত্তোলন করে ড্রাম ট্রাক এবং বাটাহাম্বার যোগে বিভিন্ন অবৈধ ইট ভাটায় নেওয়া হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় কমিটির মিটিংয়ে আলোচনা হলেও যথাযথ ফলপ্রসূ হয়নি।উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বারবার বালু এবং মাটি খেকোদের বালি ও মাটি উত্তোলন বন্ধে নির্দেশনা দিলেও তা এখনো বন্ধ হয়নি। লেখালেখি হলে প্রশাসনের অভিযান পরিচালিত হয়। দূর থেকে প্রশাসন এবং আইন-শৃংখলা বাহিনীর গাড়ি দেখলেই সটকে পড়ে বালু ও মাটি খেকোরা। ধরা পড়ে দিনমজুর। প্রভাবশালীরা ধরা-ছোয়ার বাইরে থেকে যায়।
 
প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ফসলি জমির বালি ও মাটি অবৈধ ইটভাটাসহ আশেপাশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে ড্রাম ট্রাক এবং বাটাহাম্বার যোগে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাস্তাঘাট, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। তীর থেকে মধ্য পদ্মা পর্যন্ত জেগে ওঠা চর এখন তাদের দখলে। এ যেন বালু ও মাটি দস্যুদের অভৈয় অরণ্য। হঠাৎ দেখলে মনে হবে জনস্বার্থে বড় কোনও প্রকল্পের কাজ চলছে। কিন্তুু না এটা পদ্মা নদীর বালু ও মাটি লুটের মহা আয়োজন।

স্থানীয়রা বলেন- ইতিপূর্বেও নদী থেকে অবৈধভাবে বালি ও মাটি উত্তোলনের কারণে আমাদের ফসলি জমি এবং বিটা মাটি নদীগর্ভে চলে গেছে। প্রশাসন যদি নদী থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধ না করে হয়তো আগামী বর্ষা মৌসুমে আবারো ভেঙে যাবে এই বেড়িবাঁধ। ভিটা মাটি হারিয়ে অসহায় হয়ে যাবে হাজারো পরিবার।

এই বিভাগের আরো খবর