বৃহস্পতিবার   ৩০ জুন ২০২২   আষাঢ় ১৭ ১৪২৯   ৩০ জ্বিলকদ ১৪৪৩

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৮৫

মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে সব রিক্রুটিং এজেন্সিকে সুযোগ দেওয়ার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক  

প্রকাশিত: ২ জুন ২০২২  

সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য জনশক্তি রপ্তানি উন্মুক্ত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে সম্মিলিত সমন্বয় ফ্রন্ট- বায়রা
মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির নামে ২৫টি এজেন্সির সিন্ডিকেট ২৫ হাজার কোটি টাকা পাচারের পায়তারা করছে বলে অভিযোগ করেছেন সম্মিলিত সমন্বয় ফ্রন্টের (বায়রা) সভাপতি ড. মোহাম্মদ ফারুক। এই সিন্ডিকেটকে দেশের উন্নয়ন বিরোধী, মুদ্রা পাচারকারী, মানব পাচারকারী, অভিবাসী শ্রমিকদের অর্থ লুণ্ঠনকারী ও স্বাধীনতা বিরোধী আখ্যায়িত করে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য বাজার উন্মুক্ত করার দাবি জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে সম্মিলিত সমন্বয় ফ্রন্ট (বায়রা) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তিনি।

মোহাম্মদ ফারুক বলেন, মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানিতে কথিত ২৫টি এজেন্সির সিন্ডিকেটের বাজার দখলের ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে সব বৈধ বিক্রুটিং এজেন্সির জন্য বাজার উন্মুক্ত করতে হবে। 
২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শ্রমিক রপ্তানির ফলে দেশের বিপুল পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সে সময় শ্রমিক রপ্তানি হওয়ার কথা ছিল ১৫ লাখ জন, কিন্তু হয়েছে মাত্র দুই লাখ ৭৪ হাজার ৫০০ জন। ফলে নিশ্চিত চাকরির সুযোগ হারিয়েছেন ১২ লাখ ২৫ হাজার জন। ওই সময়ে অভিবাসন ফি বাবদ নেওয়ার কথা ছিল এক লাখ ৬০ হাজার টাকা। কিন্তু নিয়েছে সাড়ে তিন লাখ থেকে চার লাখ টাকা। জনপ্রতি অতিরিক্ত আদায় করেছে প্রায় দুই লাখ টাকা। এভাবে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার ওপরে বিদেশে টাকা পাচার করেছে মাত্র ১০ সদস্যের সিন্ডিকেটটি। আর সেসময়ে ব্যবসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে ১২০০ বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি।

বায়রা সভাপতি আরও বলেন, দীর্ঘ তিন বছর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ থাকার পর ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর বাজারটি পুনরায় খোলার জন্য দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। সমগ্র জাতি আশা করেছিল চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই শ্রমিক রপ্তানি শুরু হবে। কিন্তু সিন্ডিকেটের অপতৎপরতার কারণে সেই আশা পূরণ হয়নি।

২০১৬ সালে সিন্ডিকেটের সদস্য সংখ্যা ছিল ১০, এখন তা বৃদ্ধি পেয়ে ২৫ জন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কথিত ২৫ জনের সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেটের ষড়যন্ত্রের কারণে আজও আমরা শ্রমিক রপ্তানি করতে পারছি না। সিন্ডিকেটের সদস্যরা শত শত কোটি টাকা অবৈধভাবে লেনদেন করে পুরো শ্রমিক রপ্তানি প্রক্রিয়াকে নিজেরা নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।

বতর্মানে ১৭০০ থেকে ১৮০০ বৈধ এজেন্সি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক রপ্তানি করছে জানিয়ে মোহাম্মদ ফারুক বলেন, কোন অপরাধে শত শত এজেন্সিকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ২৫টা এজেন্সি মালয়েশিয়ায় শ্রমিক রপ্তানি করার অনুমতি পাবে?

সংবাদ সম্মেলনে সম্মিলিত সমন্বয় ফ্রন্টের মহাসচিব মোস্তফা মাহমুদ বলেন, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রচুর বিদেশি শ্রমিকের প্রয়োজন। আগামী তিন বছরে মালয়েশিয়ার প্রয়োজন ১৫ থেকে ২০ লাখ বিদেশি শ্রমিক।

‘সেই সুযোগটা কাজে লাগাচ্ছে ২৫ জনের তৈরি একটি সিন্ডিকেট। এবারের ন্যূনতম টার্গেট মালয়েশিয়া শ্রমিক রপ্তানি করে ২০ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া। গত বছরের মতো এবারও জনপ্রতি অতিরিক্ত দুই লাখ টাকা করে আদায় করতে পারলে তারা অনায়াসে ২০ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে পারবে।’

যার ফলে, দেশের মানুষের কষ্টে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ২০ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা চলে যাবে ১০ থেকে ১৫ লাখ ভিসা ক্রয় বাবদ, যোগ করেন মোস্তফা মাহমুদ। 
সংবাদ সম্মেলনে সম্মিলিত সমন্বয় ফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বিয়াজ-উল-ইসলাম ও মহাসচিব মোস্তফা মাহমুদ সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

এই বিভাগের আরো খবর