মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০   আশ্বিন ১৪ ১৪২৭   ১১ সফর ১৪৪২

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৯৮

কোন মাস্ক কতটুকু কার্যকর

শারমিন আক্তার

প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট ২০২০  

করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে মাস্কের ব্যবহার বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মাস্ক পরলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করা যায়। হাঁচি, কাশি, কথা বলা এমনকি শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়ার সময় ভাইরাসবাহিত ড্রপলেট ছড়িয়ে যেতে পারে। এতে ভাইরাস অন্যদের শরীরে প্রবেশ করতে পার। তবে সব ধরণের মাস্ক ভাইরাসবাহী ড্রপলেট কিন্তু সমান মাত্রায় রোধ করতে পারেনা। এসব ভাইরাসবাহী ড্রপলেটের ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কোন মাস্ক কতটুকু কার্যকর তা জানা জরুরি।

মাস্কের কার্যকারিতার ব্যাপারে প্রস্তুতকারকদের সব দাবি সবসময় সঠিক হয় না। কেননা মাস্কের কার্যকারিতা পরীক্ষার পদ্ধতি জটিল ও ব্যয়বহুল ফলে বাজারে অনেক ধরণের মাস্ক আছে কিন্তু কোন ধরণের মাস্ক কতটুকু কার্যকর তা জানা যাচ্ছে না।

তবে সম্প্রতি ডিউক ইউনিভার্সিটির একদল বিজ্ঞানী দাবি করেছেন, তারা এমন একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন যার মাধ্যমে কোন মাস্ক কতটুকু কার্যকর তা সহজেই নির্ণয় করা যায়। আর এতে এক ধরনের মাস্কের সঙ্গে অন্য মাস্কেরও তুলনা করা যায়।

মাস্কের কার্যকারিতা নির্ণয়ের এ পদ্ধতিতে খুব জটিল কোনো যন্ত্রপাতির প্রয়োজন নেই। সস্তা লেজার ডিভাইস ও নানা ধরণের মাস্ক নিয়ে পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন কোন মাস্ক কতটুকু কার্যকর। ডিউক ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণা কাজে ১৪ ধরনের মাস্ক ব্যবহার করেছেন।

গবেষণাটির প্রধান বিজ্ঞানী, আণবিক চিত্র বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মার্টিন ফিশার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এখনকার মৌলিক প্রশ্নটি হচ্ছে কোন মাস্ক ভাইরাসবাহী ড্রপলেট ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কতটুকু কার্যকর।

কোন ধরণের মাস্ক কতটুকু কার্যকর তা ওই পদ্ধতি ব্যবহার করে পাওয়া তথ্য প্রকাশ করেছেন ফিশার। তিনি বলেন, সার্জিক্যাল মাস্ক সাধারণত স্বাস্থকর্মীরা পরে থাকেন। এটি একটি পরীক্ষিত মাস্ক। তবে বাজারে অন্যান্য যেসব সাশ্রয়ী  ও সহজলভ্য মাস্ক আছে এর সবগুলাই কিন্তু পরীক্ষিত নয়, অর্থাৎ কোন মাস্কের কার্যকারিতা কতটুকু তা নিশ্চিত নয়।

তিনি জানান, ১৪ ধরণের মাস্ক পরীক্ষা করে দেখা গেছে- এন৯৫ মাস্ক সবচেয়ে বেশি ভাইরাল ড্রপলেট রোধ করে। এর পরেই রয়েছে সার্জিক্যাল মাস্ক। তবে গবেষণায় দেখা গেছে প্রায় অন্য সব ধরনের মাস্কই কোনো না কোনো মাত্রায় ড্রপলেট ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

ফিশার জানান, ভাল্ব যুক্ত এন৯৫ মাস্কের কার্যকারিতা ফিটেড এন৯৫ মাস্কের চেয়ে কম কার্যকর। ভাল্ব যুক্ত মাস্ক পরে যখন আপনি কথা বলছেন তখন বাল্ব খুলে যায়, এতে বিশুদ্ধ বায়ু ঢুকে। কিন্তু এতে ড্রপলেটও ছড়িয়ে পড়ে।

ড্রপলেট ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে সক্ষম মাস্কের তালিকায় সবচেয়ে নিচের দিকে রয়েছে রুমাল বা পট্টি ব্যবহার করে যে মাস্কের কাজ চালানো হয়। এভাবে মুখ ঢাকলে তা কোন প্রতিরোধই তৈরি করে না। তবে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল দেখিয়েছে নেক ফ্লিসের ব্যবহার। গবেষকরা জানিয়েছেন ড্রপলেট প্রতিরোধে এটি কার্যকর ত নয়ই বরং কোন কোন ক্ষেত্রে খারাপ ফলাফল হয়।

ফিশার বলেন, আসলে কোন কিছু না পরার চেয়ে কিছু একটা পরা ভাল। তবে এটি নেক ফ্লিস মাস্কের ক্ষেত্রে কার্যকর নয়। কারণ আমরা দেখেছি- নেক ফ্লিস ব্যবহার করে যখন কেউ কথা বলেন তখন ড্রপলেটের সংখ্যা বেড়ে যায়। আমাদের মনে হয়, নেক ফ্লিসে যে উপাদান ব্যবহার করা হয় তা কথা বলার সময় বড় ড্রপলেট ভেঙে ছোট করে দেয় ও তা আরও সহজে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এটি নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

এই গবেষণার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল কম জটিলতা ও সাশ্রয়ী উপায়ে মাস্কের কার্যকারিতা নির্ণয় পদ্ধতি আবিষ্কার করা। কেননা মাস্কের কার্যকারিতা নির্ণয়ের যেসব পদ্ধতি আছে তা এখনও সাশ্রয়ী ও সহজ নয়। এ পদ্ধতিতে গবেষকরা শুধু মাত্র একটি লেজার লাইট ও ক্যামেরা ব্যবহার করেছেন। আর তাতেই সহজে তারা জানিয়ে দিয়েছেন কোন মাস্ক কতটুকু কার্যকর।