বৃহস্পতিবার   ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ৩০ ১৪৩২   ২৪ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২১৯

সেই ৬ মণ কয়েন জমা নিচ্ছে সোনালি ব্যাংক

তরুণ কণ্ঠ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২০  

সবজি বিক্রি করে জমানো খাইরুল ইসলাম খবিরের (৪৫) সেই ৬ মণ কয়েন জমা নিচ্ছে সোনালি ব্যাংক। ৬০ হাজার টাকা মূল্যের সেই কয়েনগুলো ব্যাংকে জমা নেওয়ায় এবার দারুণ খুশি ওই সবজি বিক্রেতা।

এর  আগে, ‘৬ মণ কয়েন নিয়ে বিপাকে ব্যবসায়ী’ শিরোনামে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সোনালি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ খবিরের কাছ থেকে এক, দুই টাকার মোট তিন হাজার টাকা মূল্যের কয়েন জমা নিয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব কয়েন জমা নেওয়া হবে।

সবজি ব্যবসায়ী খাইরুলের বাড়ি মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার জাঙ্গালিয়া গ্রামে। উপজেলা সদরে গত ২৫ বছর ধরে সবজির ব্যবসা করছেন তিনি। গত ১০ বছরে ক্রেতার কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের মুদ্রা নিয়েছেন। খাইরুল ক্রেতার কাছ থেকে মুদ্রাগুলো নিলেও তার কাছ থেকে আর কেউ নেয়নি। অচল হয়ে যাওয়া এ মুদ্রাগুলোর ওজন হয় ৬ মণ।
 
ব্যবসায়ী খাইরুল বলেন, ‘অনেক দরিদ্র মানুষ ও ভিক্ষুকেরা কয়েন দিয়ে সবজি কিনেছেন। আমি মুখের ওপর তাদের না বলতে পারিনি।  অনেক জায়গায় ঘুরেও কয়েনগুলো চালাতে পারিনি। কোনো ব্যাংকও এই বিপুল পয়সা আর নিতে চায় না।’

পরে তাকে নিয়ে এ বিষয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রামানন্দ পাল বিষয়টি সমাধানে এগিয়ে আসেন। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা শাখার কর্মকর্তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সোনালি ব্যাংক কয়েন জমা নেওয়া শুরু করে।

মহম্মদপুর উপজেলা সোনালি ব্যাংক সদর শাখার ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল মতিন বলেন, ‘খাইরুলের নামে একটি ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। এখানে তিনি প্রতিদিন ১ হাজার টাকার কয়েন জমা দিতে পারবেন। পর্যায়ক্রমে তার সব কয়েন জমা হবে। তিনি পরে চেকের মাধ্যমে কাগজের ব্যাংক নোট তুলে নিতে পারবেন।’

ব্যবসায়ী খাইরুল ইসলাম খবির বলেন, ‘ব্যবসার পুঁজির বেশিরভাগই কয়েনের মধ্যে রয়েছে।সেগুলো কেউ না নেওয়ায় কষ্টে ছিলেন। তবে এখন তিনি অনেক খুশি।’

এই বিভাগের আরো খবর